তরুণরাই পারে কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটাতে

আমাদের দেশে সাধারণত সকলেই পড়ালেখা শেষ করে চাকরির পেছনে ছুটে। তবে অনেকেই রয়েছেন ব্যতিক্রম। তাদেরই একজন ইমাদ ওয়াসেফ। আইইউবি থেকে বিবিএ এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করার পর বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও শেষ পর্যন্ত নিজের ভবিষ্যত্ তিনি দেখতে পেয়েছেন উদ্যোক্তা হিসেবে। তাই তরুণ এই উদ্যোক্তা গড়ে তুলেছেন ইএইচ অ্যান্ড অ্যাগ্রোভেট লিমিটেড নামের এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে নিয়োজিত। উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনের কথা জানতে চাইলে ইমাদ ওয়াসেফ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই অন্য সবার মতো ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইতাম না। সবসময় এমন নতুন কিছু করার ইচ্ছা ছিল যা দেশের সার্বিক উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারে। পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করলেও সবসময় ইচ্ছা ছিল নিজের মতো করে কিছু করার। তাই চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাবার সহযোগিতায় ও আমার নানা হাজী আবুল হাশেমের অনুপ্রেরণায় শুরু করলাম ইএইচ অ্যান্ড অ্যাগ্রোভেট লিমিটেড নামের বিভিন্ন কিটনাশক ও বালাইনাশক প্রস্তুতকারক, বিক্রয় ও বিপণন প্রতিষ্ঠান।’ ইএইচ অ্যান্ড অ্যাগ্রোভেটের কার্যক্রম সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইমাদ বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন রকমের কিটনাশক ও বালাইনাশক উত্পাদন করি। আমরা আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন কার্যক্রমেও অংশ নিয়ে থাকি। আমরা আমাদের আওতাধীন জেলাসমূহে প্রতিমাসে কৃষকদের নিয়ে সভা করে থাকি। এসব সভা থেকে কৃষকরা তাদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পেয়ে যান। তাছাড়া আমাদের বর্তমান অফিসাররা তাদের কাজের পাশাপাশি কৃষকদের বিনামূল্যে প্রেসক্রিপশন ও পরামর্শ প্রদান করে, যা কি না পরবর্তীতে সরাসরি হেড অফিস থেকে মনিটর করা হয়।’ ইমাদ ওয়াসেফ জানান বর্তমানে রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, নওগাঁ, বগুড়া, পঞ্চগড়, কুমিল্লা, বি-বাড়িয়া, সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ অঞ্চলে তাদের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু রয়েছে। আরও কয়েকটি জেলা শীঘ্রই তাদের কার্যক্রমের আওতায় আসবে। বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ হলেও অধিক জনসংখ্যার জন্য বাড়তি ফসল উত্পাদন করতে গিয়ে কৃষকরা বেশি পরিমাণে কীটনাশক ও ঔষধ ব্যবহার করে থাকেন। এই প্রবণতা জমির উর্বরতা কমিয়ে দেয় বলে জানান ইমাদ। তবে কৃষি খাতে প্রচুর সম্ভাবনা দেখেন ইমাদ। তিনি বলেন, ‘এই খাতে যথার্থ মনোযোগ দিলে দেশের চাহিদা পূরণ করে এই খাত থেকে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাও সম্ভব। তবে তার জন্য কৃষি জমির সর্বোচ্চ সদ্ব্যাবহার প্রয়োজন, প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা।’ নিজের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন সাফল্য লাভের সংবাদ জানিয়ে ইমাদ বলেন, ‘আমরা ২০১২ সাল থেকে কৃষক সভার আয়োজন করে আসছি। শুধু কৃষক সভা নয়, কৃষকদের জন্য আরও নানা ধরনের সেবা প্রদান করে আসছি আমরা। কোন কৃষি পণ্য ভালো, কোন কীটনাশক কখন ও কীভাবে ব্যবহার করতে হবে এসবের সঠিক ধারণাও আমরা দিয়ে থাকি। এতে করে অনেক কৃষকই আর্থিকভাবে সাফল্য পেয়েছেন।’ তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না ইমাদ। ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষি কাতকে স্বাবলম্বী একটি খাতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। আমাদের দেশের কৃষকরা হচ্ছে আমাদের প্রাণ। তাদের সাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারলে আমাদের দেশও সাবলম্বী হবে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো ‘সবুজে থাকুন, সবুজে বাঁচুন; সর্বদা সুস্থ থাকুন’। আমরা চাই সমগ্র বাংলাদেশে আমাদের সেবা পৌঁছে দিতে যাতে করে আমাদের কৃষি খাত সঠিকভাবে বিকশিত হতে পারে।’ এর জন্য তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইমাদ বলেন, ‘একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে সবার আগে প্রয়োজন সততা ও সদিচ্ছা । কোনো উদ্যোগেই একদিনে সাফল্য পাওয়া যায় না। আর নতুন নতুন উদ্যোগে সবসময়ই নানা ধরনের প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়। তাই বাঁধা এলে হতাশ হলে চলবে না। ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যেতে হবে সঠিক ও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নিয়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা এখনও গড়ে ওঠেনি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় পড়ালেখা শেষ করে সবাই চাকরির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থাও এর জন্য দায়ী। তবে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার ইচ্ছা নিয়ে এগিয়ে গেলে উদ্যোক্তা হিসেবে সাফল্য লাভ করা সম্ভব। আমি মনে করি আমাদের দেশের তরুণদের যে কর্মোদ্যম, সেটা কৃষি খাতে নিয়ে আসতে পারলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়ে দেওয়া সম্ভব।’  আফরিন জাহান