শুরু হচ্ছে ঘরে ফেরা মিলছে না টিকিট
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৪, ২২:৩৪
আসন্ন ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকা থেকে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হচ্ছে। বাস-ট্রেন ও লঞ্চের অগ্রিম টিকিটের এই যাত্রা শুরু হবে। যদিও ইতিমধ্যে সড়কপথে ঘরমুখো যাত্রীদের যাত্রা শুরু হয়েছে।
গতকাল বুধবার গাবতলী বাস টার্মিনালে ভিড় করেন ঘরমুখো মানুষ। তবে ঘরে ফেরার জন্য পাওয়া যাচ্ছে না বাস-ট্রেন ও লঞ্চের কোন টিকিট। ২৭ জুলাইয়ের ট্রেনের অগ্রিম টিকিটের জন্য স্টেশনে উপচেপড়া ভিড় থাকলেও খালি হাতে ফিরেছেন অধিকাংশই। ট্রেনে কোটা পদ্ধতির কারণে টিকিটের সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। ফলে ঈদযাত্রা আনন্দের পরিবর্তে বিষাদে পরিণত হচ্ছে টিকিট প্রত্যাশীদের কাছে। ট্রেন ও বিআরটিসি বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। এদিন ২৮ জুলাইয়ের আগাম টিকিট বিক্রি করা হবে।
গতকাল কমলাপুর স্টেশনে সকাল ১১টায় শেষ হয়ে যায় ট্রেনের আগাম টিকিট। বিক্রি করা হয়েছে ২৭ জুলাইয়ের আগাম টিকেট। এ দিনের টিকিটের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি; কিন্তু টিকেট না পেয়ে হতাশ হয়ে ফেরেন হাজার হাজার মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ পেয়েছেন সোনার হরিণের মতো দুর্লভ রেলের টিকিট; কিন্তু দুপুর গড়ানোর আগেই কাউন্টার বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে কালোবাজারি চক্রের দৌরাত্ম্যও ছিল গতকাল। কালোবাজারি চক্রের সদস্য সন্দেহে কমলাপুর স্টেশন থেকে পাঁচজনকে আটক করেছে রেল পুলিশ। তবে কোনো মামলা হয়নি। গত কয়েকদিনই কমলাপুর রেলস্টেশনে আগাম টিকিটের জন্য আগের দিন দুপুর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন শত শত মানুষ। তবে গতকাল ২৮ জুলাইয়ের টিকিটের জন্য দিনে সে চিত্র দেখা যায়নি। কারণ আজ ২৮ জুলাই অর্থাত্ ঈদের আগের দিনের টিকিট বিক্রি করা হবে। ঈদের নামাজের আগে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা থাকায় এ দিনের টিকিটে আগ্রহ কম।
গত ২০ জুলাই আগাম টিকেট বিক্রি শুরু করে রেলওয়ে ও বিআরটিসি। ওইদিন আজ বৃহস্পতিবারের আগাম টিকেট বিক্রি করা হয়। এভাবে পাঁচদিন ধরে চলছে টিকেট বিক্রি কার্যক্রম। বিআরটিসির টিকেট বিক্রির সময়সীমা আরো একদিন বাড়তে পারে। তবে আরো আগেই শেষ হয়েছে বেসরকারি বাসের আগাম টিকিট বিক্রি।
গতকাল গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা যায়। মহাসড়কে মহাজট সৃষ্টির আগেই অনেকে রওনা দেন বাড়ির উদ্দেশে। একটু নির্বিঘ্ন যেতে আগে-ভাগেই রওনা দিচ্ছেন তারা। গাবতলী বালুর মাঠে একটি বেসরকারি পরিবহনের কাউন্টারে অপেক্ষমাণ যাত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগম জানালেন, পরিবারের সবাই মিলে রাজশাহী যাচ্ছেন তারা। বৃহস্পতিবার যাত্রীর চাপ বেড়ে পথে যানজট হতে পারে এ আশঙ্কায় একটু আগে-ভাগেই রওনা দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা আজ বৃহস্পতিবার থেকে মূলত ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় সৃষ্টি হবে বাস টার্মিনালগুলোতে।
ঢাকা বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের নেতা সালাউদ্দিন ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, মাঝখানে রবিবার একদিন অফিস খোলা থাকলেও দুই দিন সরকারি ছুটি সামনে রেখে বৃহস্পতিবার বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি বেশিরভাগ মানুষের। এরপর শুক্র, শনি ও রবিবার- এ তিনদিনে রাজধানী প্রায় ফাঁকা হয়ে যাবে। তিনি বলেন, মহাসড়কে সংস্কার কাজ করা হলেও অনেক জায়গায় খানাখন্দ রয়েছে। বৃষ্টি না হলেও এই সড়ক চলাচল উপযোগী থাকবে। আর ভারী বৃষ্টি হলে সড়ক-মহাসড়কে গর্ত সৃষ্টি হবে। ফলে এবার ঘরমুখো মানুষকে তীব্র যানজটের কবলে পড়তে হতে পারে। বাস মালিকদের তথ্যমতে, ঈদের দুইদিন আগে বা ঈদের একদিন আগে সাধারণত গার্মেন্টস কর্মীদের বাড়ি ফেরার একটা চাপ পড়ে গাবতলী টার্মিনালে। এ সময় প্রায় দুইশ পরিবহনের ২ হাজার ২২শ গাড়ি গাবতলী টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়। একই চিত্র রাজধানীর ব্যস্ততম মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে।
অতিরিক্ত ১০ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা ভাড়া আদায়
ঈদে সড়ক, রেল, নৌ-পথের যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। আর আদায় করা অতিরিক্ত অর্থের একটি বিশাল অংশ রাজনীতি ও প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা লুটপাট করছেন বলে অভিযোগ সংগঠনটির। গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ অভিযোগ করেন।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২৫ রমজান থেকে ঈদের ১০ দিন পর্যন্ত সড়কপথে ছয় হাজার কোটি টাকা, নৌ-পথে চার হাজার কোটি টাকারও বেশি সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় করে নিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, রেলপথে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে ট্রেনের আগাম টিকিট আগাম হাতিয়ে নিয়ে চিহ্নিত কালোবাজারিরা একই সময় প্রায় ৭৭৫ কোটি টাকারও বেশি লুট করছে। সারাদেশে যানজট ও সড়কের বেহাল দশার কারণে যাত্রীরা নৌ-পথের উপর নির্ভশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, নৌ-পথে এবার ঈদে এক কোটিরও বেশি লোক যাতায়াত করবে; কিন্তু তার মধ্যে ৮০ শতাংশ যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া গুণে বাড়ি ফিরছে। এছাড়া রেল-পথে প্রতিদিন ৭৬টি আন্তঃনগর, ৬২টি মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেন, ৯৫টি লোকাল ট্রেনে প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ যাত্রী বহন করা হয় যার ৪৮ শতাংশ যাত্রী কালোবাজারির কাছ থেকে চড়া দামে টিকিট সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়ানো, মনিটরিং টিমে যাত্রীদের প্রতিনিধি রাখা, শাস্তির ব্যবস্থা, টিকিটের গায়ে দূরত্ব ও ভাড়ার অংক লিখে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি শরিফ রফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন-সংগঠনের প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রুমি, নির্বাহী সদস্য কাজী আমিনুল্লাহ মাহফুজ ও মাহামুদুল হাসান প্রমুখ।