এসআই জাহিদ আবার রিমান্ডে
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৪, ২২:৩৫
রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের ফলে নিহত ঝুট ব্যবসায়ী সুজন হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে রিমান্ডে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদ ও পুলিশের সোর্স নাসিম শেখের দ্বিতীয় দফায় ফের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আগে মঞ্জুর হওয়া পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে গতকাল বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মন আসামিদের আদালতে হাজির করে ফের ১০ দিনের রিমান্ড চান।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অন্য আর কার কার সম্পৃক্ততা রয়েছে তা জানতে আসামিদের ফের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞসাবাদ করা প্রয়োজন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান রিমান্ড শুনানি শেষে আসামিদের ফের এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মাহবুবুর রহমান সুজন নামে এক ঝুট ব্যবসায়ীকে পুলিশের হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে গত ১৫ জুলাই এসআই জাহিদ ও সোর্স নাসিমকে গ্রেফতার করা হয়। ১৭ জুলাই আদালতে তাদের হাজির করে রিমান্ড চাইলে ওইদিন ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা সুজনকে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার ভাড়া বাসা থেকে রাতে তুলে নিয়ে মিরপুর থানা হাজতে না রেখে নিজ হেফাজতে রাখে। একই সাথে তুলে নিয়ে যাওয়া সুজনের স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে মহিলা হাজতখানায় আটকে রাখে। এরপর রাত পৌনে ৪টার দিকে সুজনকে নিয়ে কথিত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য বের হয়। পরে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এসআই জাহিদ মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সালাউদ্দিন খানকে মোবাইল ফোনে জানান যে, ভিকটিম সুজনের বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়ায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ১৭ জুলাই মিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক রাকিবুল ইসলাম খান বাদী হয়ে এসআই জাহিদ এবং সোর্সসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারভুক্ত মামলার অন্য আসামিরা হলেন- এএসআই রাজকুমার, কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন, রাশিদুল, সোর্স পলাশ, ফয়সাল এবং খোকন। এরা পলাতক রয়েছে।
প্রসঙ্গত, উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদকে বুধবার ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে চলতি বছরে তিনজনকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। সর্বশেষ মিরপুর থানায় কর্মরত থাকাবস্থায় গত ১২ জুলাই (শনিবার) রাতে তার হেফাজতে থাকাকালীন ঝুট ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সুজনের মৃত্যু হয়।