২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হবে বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হওয়ায় উন্নয়ন কাজগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা উন্নয়নমূলক যে কাজগুলো করে যাচ্ছি, সেগুলো বাস্তবায়নের একটা সুযোগ পেয়েছি। এখনো আমাদের হাতে চার বছর পাঁচ মাসের মত সময় আছে। এর মধ্যে আমরা যে কাজগুলো হাতে নিয়েছিলাম সেগুলো করে যেতে পারবো। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আমাদের ভিশন-২০২১ এর মধ্য বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ বানানোর স্বপ্নের কথা বলেছিলাম। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। এখন আমরা স্বপ্ন দেখছি উন্নত দেশের। যা ২০৪১ সালের মধ্যই আমরা অর্জন করতে চাই। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লন্ডনের হিলটন হোটেলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার মাহফিলের আগে এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ শরীফের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজেদুর রহমান ফারুকের পরিচালনায় আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের ৮ শতাধিক নেতাকর্মী ইফতারে যোগ দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী, বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিলসহ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরাও ইফতার মাহফিলে অংশ নেন। এছাড়া ১২ জন ব্রিটিশ এমপি, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যবসায়ী আমীন আলী এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পুত্র রাশেদ সারওয়ার, ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজারুল কায়েস উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভাশেষে যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের একটি ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের সভাপতি তামিম আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক সজীব ভুঁঁইয়া এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৪০ শতাংশের বেশি ভোটে জনগণ বর্তমান সরকারকে ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম একটি নির্বাচিত সরকার আরেকটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনের নামে বিএনপি’র ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার পাশাপাশি নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে দেশ কীভাবে অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন দল যদি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে মনে করে, নির্বাচন ঠেকাবে, ঠেকাতেও যদি ব্যর্থ হয়, আন্দোলন করতেও যদি ব্যর্থ হয় সে দায় তো বাংলাদেশের জনগণের না। সে দায় আমাদের না। ব্যর্থতার আগুনে তারা সবাইকে পোড়াতে চাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, পহেলা জানুয়ারির মধ্যে আমরা সকল ছাত্র-ছাত্রীর বই বিতরণ করেছি। কারণ আমাদের সদিচ্ছা ছিল। হরতাল, খুন, বাস পোড়ানো, ট্রেন পোড়ানো, কোরআর শরীফ পোড়ানো, মসজিদে আগুন দেয়া, বাসে আগুন দেয়া, গাছ কাটা, রাস্তা কাটাসহ এমন অপকর্ম নাই, নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি-জামায়াত করে নাই। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নের কৌশল আজ বিদেশিরাও জানতে চান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সাথে বৈঠকের সফলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশকে যে সহায়তা ব্রিটিশ সরকার দিত সেটা তারা অব্যাহত রাখবে এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আমাদের উন্নয়নমূলক কাজগুলো করবে। বাংলাদেশ থেকে ব্রিটিশ ভিসা প্রসেসিং কার্যক্রম দিল্লিতে সরিয়ে নেয়া নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের সাথে কথা বলেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ সরকার তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, যাতে করে বাংলাদেশের মানুষের কোনো সমস্যা না হয় সে বিষয়টি তারা দেখবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নতি তখনি হয়, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন তখনি হয় যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। ৯৬’ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ যতগুলো উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেগুলো নষ্ট করে দিয়েছে। কিন্তু এবার আর নষ্ট করতে পারবে না। তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে হরতাল, অবরোধ ও নানা নাশকতা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৯৫ ভাগ বাস্তবায়ন করেছে। বার্ষিক বাজেটের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ৩ গুণ করা হয়েছে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই বিশাল সম্পদ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগবে। শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে একটা চরম ষড়যন্ত্র হয়েছে। আপনারা জানেন যে কারা ষড়যন্ত্র করেছিল। আল্ল¬াহর রহমতে নিজেদের অর্থায়নে আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করবো। আমরা তা ইতোমধ্য শুরু করেছি। ‘জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে নিজস্ব অ্যাকশন প্ল¬ান নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ’ জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন ব্রিটিশ ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডগলাস আলেকজান্ডার। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৪টায় তিনি হোটেল হিল্টন অন পার্ক লেনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত্ করেন। তিনি কোপেনহেগেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা করেন। আগামী সেপ্টেম্বরে প্যারিসে অনুষ্ঠেয় জলবায়ু সম্মেলনে একই ভূমিকা রাখবেন কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী এ ইস্যুতে উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি পূরণ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমাদের এ বিষয়ে ভূমিকা না রেখে উপায় নেই। উন্নত বিশ্ব্ব জলবায়ু ইস্যুতে তাদের প্রতিশ্রুত সহযোগিতা পুরোপুরি দিতে না পারলেও বাংলাদেশ তার নিজস্ব অ্যাকশন প্ল¬ান নিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী উভয়ের সাক্ষাত্কার শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য দেন। বিনিয়োগ করতে প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষ করে সিলেটের প্রবাসীদের বাংলাদেশে বড় অংকের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের সরকার দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার দুপুরের পর পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট সর্বদলীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার হোটেলে সাক্ষাত্ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী ও পররাষ্ট্র সচিব যৌথভাবে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ সরকার এবং ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রথম এ গার্ল সামিটে যোগদানের জন্য তিনদিনের সরকারি সফরে ২১ জুন লন্ডনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক এ্যান্থনি লেকের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্য সফর করেন। তিনদিনের সফর শেষে গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় বিকাল ছয়টায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশ্যে লন্ডন ত্যাগ করেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় তার ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।