দিরাইয়ের ২৭ হাওরে ৫৭ স্লুইস গেট কৃষকের গলার ফাঁস

২৭ হাওরে ৫৭ স্লুইস গেট এখন কৃষকের গলার ফাঁস হয়ে আছে। নদী ও হাওরের সংযোগস্থলে পানি আসা-যাওয়ার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এসব স্লুইস গেট নির্মাণ করেছিল ’৯০’র দশকে। কালের পরিক্রমায় নাব্যতা হারানো কুশিয়ারা, কালনী, সুরমা, পিয়াইন, দাড়াইন, চামটিসহ হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জের অনেক নদ-নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় হাওর থেকে পানি যেমন নদীতে নামতে পারছে না তেমনি এসব স্লুইস গেট অকেজো হয়ে পড়ায় অকাল বন্যার পানি হাওরে প্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না। পাউবোর কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিনের পুরোনো এসব অকেজো স্লুইস গেট মেরামতসহ নদী ও হাওরের সংযোগস্থল খনন না করায় এগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে। যে কারণে বরাম হাওরের নোয়া খাল ও টাংনির হাওরের বাদালিয়া স্লুইসগেট একেবারে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জেলা পাউবোর প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, হাওরে পানি উঠা-নামার জন্য নদী ও হাওরের উত্সমুখে স্লুইস গেটগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল ’৯০’র দশকে। এগুলো পাউবোর মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্ট মেইন্টেনেন্স করতো। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত্ এসব স্লুইস গেটগুলোতে পাউবোর কোনো অপারেটর না থাকায় সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। জেলা পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোসলেহউদ্দিন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্লুইসগেট মেরামতের নির্দেশনা পাওয়া গেছে, শুকনো মৌসুমে এগুলোর কাজ শুরু হবে। জাগো দিরাইর সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, আমাদের সেবাদানকারী সরকারি সংস্থাগুলো সহজ সমাধানের পথে না গিয়ে বরং সমস্যাকে জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী করে রাখে। স্লুইস গেট মেরামতের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।