বিদেশি পোশাকের দাপট হুমকিতে দেশীয় তাঁতবস্ত্র
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০১৪, ২১:৪৮
ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী জুড়ে চলছে মেলা আর প্রদর্শনী। যাদের অধিকাংশই নারী উদ্যোক্তা। এসব মেলায় অনায়াসে চলছে সুটকেস পার্টির রমরমা ব্যবসাও। এ কারণে দেশিও পোশাকের বাজার হুমকির মুখে পড়ছে বলে জানান বিক্রেতারা।
ধানমন্ডি ডাব্লিউভিএ মিলনায়তনে, দৃক গ্যালারিতে, বনানীর মতো কিছু স্থানে স্বল্প সময়ের জন্য প্রদর্শিত হয় কিছু মেলা। সেখানে দেশীয় বুটিক হাউসের নামে চলে পাকিস্তানি ও ইন্ডিয়ান শাড়ি পোশাকের প্রদর্শনী। এসব প্রদর্শনী ও মেলায় যেসব বুটিক হাউস কেবল দেশীয় শাড়ি পোশাক নিয়ে আসেন; মেলা শেষে তাদের গুনতে হয় লোকসান।
ধানমন্ডি, আগারগাঁও, মতিঝিল, বনানী, শাহবাগের মেলা ঘুরে দেখা যায় এসব বুটিক হাউসে প্রদর্শিত হচ্ছে পাকিস্তানি লন, কুর্তি, ইন্ডিয়ান ক্যাটালগের বিভিন্ন নামের পোশাক। দামে কিছুটা বেশি হলেও এসব পোশাক কিনছেন ক্রেতারা। ‘ফ্যাশন পয়েন্ট’ এর মনিকা ইসলামসহ সকলেই জানান, আমাদের নিজস্ব বুটিক হাউস রয়েছে; তবে চাহিদার কথা মাথায় রেখে তারা কিছু পাকিস্তানি ও ইন্ডিয়ান পোশাক মেলায় তুলেছেন। আর এসব পোশাক তারা পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনে আনেন বলে জানান।
লালমাটিয়া থেকে মেলায় লিলেনের ওয়ানপিস জামা কিনতে এসেছেন, অনাদি ও তার খালামণি। অনাদি বলেন, গাউসিয়া, চাঁদনীচক, নিউমার্কেটসহ নামিদামি সব মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে এসব পাকিস্তানি ও ইন্ডিয়ান পোশাক। তবে মেলাগুলোতে তুলনামূলক এসব পোশাকের দাম কম থাকে বলে মেলায় কিনতে আসা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেলার একজন বিক্রেতা বলেন, দেশীয় বুটিক হাউসের নাম ধরে অনেকে বিদেশ থেকে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে সুটকেসে করে এসব পোশাক আনে বলে এরা বাইরের থেকে কম দামে এসব পোশাক বিক্রি করতে পারেন। যার কারণে মেলায় পাকিস্তানি ও ইন্ডিয়ান থ্রিপিসের ক্রেতা অনেক বেশি থাকে।
এদিকে, আগারগাঁও তালতলা বাস স্ট্যান্ডে মাসব্যাপী চলছে ‘দেশীয় তাঁতবস্ত্রের মেলা’। মতিঝিলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) মেলা। ‘ইকনোমি প্রদর্শনী, ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানি বুটিক মেলা, ঈদ ফ্যাশন মেলা, কারুশিল্প প্রদর্শনী। এসব মেলার অনেকে ইতিমধ্যে মেলা শেষ করে ঘরে ফিরেছেন।
এসব মেলায় অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। তাদের অনেকে নিজেরাই তাঁতি। নিজেদের পণ্য বিক্রি করতে তারা মেলায় নিজেই হাজির হন। এসব মেলায় দেখা যায় বিভিন্ন স্টল ঘুরে ক্রেতারা কিনছেন তাদের পছন্দের পোশাক। বিভিন্ন শপিং মলের তুলনায় কমদামে কিনতে পেরে সন্তুষ্টও তারা।
মেলার বিভিন্ন স্টলে পাওয়া যাচ্ছে ঢাকাই জামদানি, রাজশাহীর সিল্ক, কুমিল্লার খাদি, মিরপুরের বেনারসী, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নরসিংদীর সুতি শাড়ি ও লুঙ্গি, কুমারখালীর বিছানার চাদর-গামছা, বাহারি রংয়ের দেশীয় থ্রি পিস, ছেলেদের পাঞ্জাবি-ফতুয়া-শার্ট।
আগারগাঁও তালতলা বাস স্ট্যান্ডে চলছে ‘দেশীয় তাঁতবস্ত্র মেলা’ নামে মাসব্যাপী ঈদ মেলা। আয়োজক টাঙ্গাইল তাঁতী পুনর্বাসন সংস্থা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে মেলা।
মেলায় অংশ নেন কুমিল্লা বিশুদ্ধ খাদি ঘর। প্রতিষ্ঠানটি মূলত কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী খাদি বস্ত্র নিয়ে মেলায় আসে। এখানে রয়েছে খাদি কাপড়ের শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, মেয়েদের থ্রি পিস, বেড শিটসহ বিভিন্ন পণ্য। রাজশাহী বিসিক থেকে আসে রাজশাহী সিল্ক। প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী নাহিদ হাসান জানান, রাজশাহী সিল্কের দাম একটু বেশি। তবুও মেলা এলাকার ক্রেতাদের বিষয়টা তারা বিবেচনায় রেখে শাড়ি, থ্রি পিস ও পাঞ্জাবি এনেছেন। সিল্কের শাড়ির দাম ১৮০০ টাকা থেকে ৫২০০ টাকা পর্যন্ত। মেয়েদের থ্রি পিসের দাম পড়বে ৬০০ টাকা থেকে ২৬০০ টাকার মধ্যে। সিল্কের পাঞ্জাবির দাম পড়বে ৬০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা।