আমরা সবাই চেষ্টা করছি

একটা কথা সবাই স্বীকার করছেন, চান্দিকা হাতুরুসিংহে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে জাতীয় দলের অনুশীলনের চরিত্রে এক ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন অনুশীলন অনেক সিরিয়াস, অনেক আটোসাটো ব্যাপার। এটা ভালো, কী মন্দ তা সময় বলবে। তবে গতকাল ঈদের ছুটির আগে শেষদিনের অনুশীলনের পর হাতুরুসিংহে বললেন, তিনি আশাবাদী। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর, দলের অনুশীলনের স্টাইল, সাকিব আল হাসান; অনেক কিছু নিয়েই কথা বললেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ— কেমন হল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের প্রস্তুতি? আমরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্কিল উন্নয়নের কাজ করছি। একেবারে ব্যাসিক স্কিলেই মনোসংযোগ করা হয়েছে—কিভাবে আরও উন্নতি করা যায়, ব্যাপারগুলো আরও ভালোভাবে বোঝা। ব্যাটসম্যানরা বিশেষ করে নিজেদের খেলাটা কেমন, কি করে তারা এসব যাতে বুঝতে পারে, তা নিয়ে কাজ করা হয়েছে। এ জন্য তারা নিজেদের ভিডিও দেখেছে। কোথায় উন্নতি করতে হবে, সেটা ঠিক করেছে। বোলারদের ব্যক্তিগত স্কিল, স্টক বল, বৈচিত্র্য এসব নিয়ে কাজ করা হয়েছে। আমরা এখনও ঠিক বিশ্লেষণটা শুরু করিনি। ঈদের পর আশা করছি সেটা করা হবে। সবমিলিয়ে যা ট্রেনিং হল, তাতে খুশী আপনি? আমরা তো আসলে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের ব্যক্তিগত উন্নতি কিভাবে করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করেছি। যেভাবে কাজ হয়েছে, তাতে আমি খুশী। এরপর আসলে কয়েকটা ম্যাচ খেললে অনেক কিছু বোঝা যাবে। ভারতের বিপক্ষে ওভাবে হারের পর দলের মানসিক অবস্থা কেমন? আমি তো তাদের মাথার ভেতর ঢুকতে পারি না। মানসিক অবস্থা ভালো না, এটা আপনারা বলছেন। আমার তো মনে হয়, দলের সবারই মানসিক অবস্থা ভালো। মনে রাখবেন হার খেলারই অংশ। ফলে যা হয়েছে, সেটা হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছি। আগস্টের ৩ ও ৪ তারিখে আরও কোচ আসছেন। আমরা সব ধরনের সহযোগিতা পাবো। দলের সেরা খেলোয়াড়কে না পাওয়াটা কি হতাশার? আমি হতাশ হই না। এটাও আপনাদের কথা। আমি কিভাবে আপনাদের এই কথায় মন্তব্য করবো। সাকিবকে কি মিস করবেন? সাকিবের মাপের একজন খেলোয়াড় যদি না থাকে, বিশ্বের যে কোনো দল তাকে মিস করবে। কিন্তু আমি কি করতে পারি? আমাকে বাস্তবতার মধ্যদিয়ে যেতে হবে এবং তার মুখোমুখি হতে হবে। ফলে আমরা সামনেই তাকাচ্ছি। হিথ স্ট্রিককে কবে পাচ্ছেন? তার সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে? ও সম্প্রতিই ফিরে আসবে। আমাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে। ৩১ জুলাই সম্ভবত ফিরে আসবে। পরের পর্যায়ের ট্রেনিংয়ে সে যোগ দেবে। আমরা ফাস্ট বোলারদের ট্রেনিংয়ে ওর গাইডলাইন অনুযায়ীই কাজ করছি। ও যেহেতু একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক দিন কাজ করবে। তাই বাড়ি বসেই কিছু জিনিস ঠিক করে দিচ্ছে। আর এবার এসে তো লম্বা সময়ই থাকবে সে। সব মিলিয়ে সফরটা কী খুব চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে? যে কারোর জন্যই চ্যালেঞ্জিং হত। আমি জানি, আমরা এখন জিততে পারছি না। তবে জয় থেকে খুব একটা দূরে নেই আমরা। আমি আশাবাদী। এখন দেখা যাক আগামী ৬ থেকে ৮ মাসে আমরা কোথায় যাই।