দেশে এখনো সুশাসনের দারুণ অভাব :স্যার ফজলে হাসান আবেদ

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেছেন, দেশের শাসন ব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। এখনো দেশে সুশাসনের চরম ঘাটতি রয়েছে। তারপরও দেশে অগ্রগতি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীতে ‘ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ গভর্নেন্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)’ কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিআইজিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. সৈয়দ সাদ আন্দালিব, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালকের উপদেষ্টা ড. মাহবুব হোসেন প্রমুখ। স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেন, সুশাসনের অভাব থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ উন্নতি করছে। তবে বিগত বছরে সরকারগুলো এই অগ্রগতিতে বিশাল কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। বরং সময়ের পরিবর্তনে সুশাসনের কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে। তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ইনস্টিটিউট অফ গভর্নেন্স স্টাডিজ (আইজিএস) প্রতিষ্ঠার সূত্র ধরে বলেন, সুশাসন নিয়ে বিস্তর গবেষণা হলেও এ বিষয়ে সঠিক প্রচারণার অভাবও রয়েছে। সুশাসনের জন্য গবেষণাভিত্তিক প্রচারণায়ও গুরুত্ব দিতে হবে। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) কয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগ লক্ষ্যই বাংলাদেশ পূরণ করেছে। দারিদ্র্যের হার কমেছে। এতে শুধু ব্র্যাক নয় আরো কিছু ক্ষেত্রও কাজ করেছে। সরকারেরও প্রচেষ্টা ছিলো। তিনি বলেন, শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহারও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তবে শিক্ষার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা এখনো অর্জিত হয়নি। ঝরে পড়া ও অন্যান্য কারণে প্রায় ২৫ শতাংশ শিশু এখনো প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্র্যাক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দারিদ্র্য দূরীকরণে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার রোধসহ যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া ও এইডস প্রতিরোধেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেন, জাতিসংঘের পরবর্তী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় ন্যায়বিচারকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। ন্যায়বিচারের পাশাপাশি দারিদ্র্য দূরীকরণ, উদ্যোগ গ্রহণের স্বাধীনতাও দরকার রয়েছে। তবে আইনের শাসনের জন্য ন্যায়বিচার জরুরি। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে দারিদ্রতা দূরীকরণে প্রায় চার দশক আগে ব্র্যাক যাত্রা শুরু করেছিলো। সম্প্রতি একটি সুইস প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ব্র্যাক বিশ্বের এনজিওগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। এনজিওগুলোর কার্যক্রমের প্রভাব, স্থায়ীত্ব ও উদ্ভাবন এই তিনটি বিষয়ের বিবেচনায় ব্র্যাক প্রথম হয়েছে। বাংলাদেশে সুশাসন ও উন্নয়নের বাধা দূর করতে ব্র্যাক গবেষণা ও অধিপরামর্শকের কাজ করে যাবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের ভাইস-চেয়ারপার্সন ও নির্বাহী পরিচালক ড. আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী, বিআইজিডি গবেষক ড. তোফায়েল আহমেদ, গবেষণা প্রধান ড. মিনহাজ মাহমুদ, ড. মির্জা হাসান, একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর ড. জহুরুল ইসলাম প্রমুখ। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় কার্যকর, স্বচ্ছ, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত ও সহযোগিতা করার লক্ষ্যে ২০০৫ সালে আইজিএস প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে ২০০৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও সামাজিক অবিচার মোকাবেলায় গবেষণা, শিক্ষা বিস্তার ও জ্ঞান অন্বেষণের জন্য ব্র্যাক ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। যেহেতু শাসন ও উন্নয়ন একটি অপরটির পরিপূরক, তাই শিক্ষা বিস্তার ও গবেষণার ধারাকে শক্তিশালী করতে গত বছরের মাঝামাঝি প্রতিষ্ঠান দুটি একীভূত হয়ে বিআইজিডি আত্মপ্রকাশ করে।