ঈদের আনন্দ নেই গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র পাড়ের মানুষের

গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদের দুইপারের মানুষগুলো অব্যাহত নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আর কয়েকদিন পর ঈদ-উল-ফিতর। ঈদের সেই আনন্দের জোয়ারে ভাসছে গোটা দেশ। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নদের দুই পারের মানুষগুলোর সেই আনন্দের চেয়ে নতুন মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এবারো তাদের না ছুয়ে চলে যাবে ঈদ। বছর বছর নদীর পাড়ের এইসব ছিন্নমূল মানুষের দুঃখের চিত্কার কারো কানেই পৌঁছায় না। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্রের উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় রক্ষা পায়নি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার পূর্ব কঞ্চিপাড়ার আজিরন বেগমের ঝুপড়ি ঘরটি। মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই হারিয়ে চার মেয়ে আর প্রতিবন্ধী স্বামীকে নিয়ে এখন তিনি দিশাহারা। কিন্তু তারপরও ঈদে নতুন কাপড়ের জন্য অবুঝ সন্তানের কান্নাভেজা আবদার এই মায়ের কষ্টকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। গত দুই সপ্তাহে আজিরন বেগমের মতো অন্তত: আরো অর্ধশতাধিক পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে সড়ক বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ধারে আশ্রয় নিয়েছে। ওই এলাকার কৃষক রাজু মিয়া জানালেন, গত কয়েক দিনে রাক্ষুসী ব্রহ্মপুত্র গিলেছে বিঘার পর বিঘা পাট ক্ষেত, আবাদি জমি, গাছপালা। ভাঙনের শিকার এসব মানুষদের সহযোগিতা তো দূরের কথা শান্ত্বনা দেবার মতও কেউ নেই। বারবার সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে ভাঙন ঠেকানোর আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সেই ভোটের সময় দেখা হলেও সবহারা এসব মানুষের এই মহাবিপদে এখন পর্যন্ত পাশে কেউই দাঁড়ায়নি । গৃহিনী সখিনা বেগম জানালেন, এদিকে অব্যাহত ভাঙনে নদীর কাছার (পার) থেকে বাড়ি-ঘর সরানোর তাড়া। অন্যদিকে ঈদে ছেলেমেয়েদের নতুন জামা কাপড়ের আবদার। তিনি আরো জানান, নতুন কাপড় তো দূরের কথা, ঈদের দিন এসব পরিবারের ভালো খাবারের নিশ্চয়তাও নেই। কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক মুন্না বলেন, ভাঙন কবলিত মানুষদের জন্য সম্প্রতি ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দেয়া সকল সহযোগিতা থেকে কঞ্চিপাড়ার মানুষকে উপজেলা প্রশাসন বঞ্চিত করেছে। তাই তার পরিষদের পক্ষ থেকে আপাতত কিছুই করার নেই বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি।