রবির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে মাঠে নামছে দুদক

বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর রবির সিম রিপ্লেসমেন্টের নামে রাজস্ব ফাঁকি ও ১১ বছরে তরঙ্গ চার্জের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মাঠে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে এ অনুসন্ধানের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে এখনো এ অনুসন্ধানের জন্য দুদক কোন কর্মকর্তা নিয়োগ করেনি। সমপ্রতি মোবাইল ফোন অপারেটর রবির বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি ও তরঙ্গ ফি (চার্জ)’র হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আসে দুদকে। পরে অভিযোগটি আমলে নিয়ে তা যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। জানা যায়, ১৫ বছর আগে মোবাইল ফোন অপারেটর একটেল পরবর্তীতে রবি আজিয়াটা নামে তাদের ব্যবসা শুরু করে। শুরুতে রবি ১৭ দশমিক ৮ মেগাহার্জ ফ্রিকোয়েন্সি (তরঙ্গ) নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও কোনো তরঙ্গ চার্জ দেয়নি। ওই সময় নানাভাবে তত্কালীন একটেলের কাছে ফ্রিকোয়েন্সি ফি চাওয়া হলেও নীতিমালা না থাকার অজুহাতে এই তরঙ্গ চার্জ দেয়নি তারা। বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী রবি এভাবে প্রথম ১১ বছরে সর্বনিম্ন ১ হাজার কোটি টাকার এই প্রাকৃতিক সম্পদ বিনা পয়সায় ব্যবহার করেছে। যা আজো অনাদায়যোগ্য এবং আত্মসাত্কৃত। এদিকে সিম রিপ্লেসমেন্টের নামে ৬৪৭ কোটি টাকা কর ফাঁকির অভিযোগও আছে রবি আজিয়াটার বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালের জুন মাসে সিম রিপ্লেসমেন্টের বিষয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে এনবিআর। ওই বিশেষ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে শুধু রবিই ৬৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৭ সালের মার্চ থেকে ২০১১-এর জুন পর্যন্তু ৫২ লাখ ৬১ হাজার ৫৪১টি সিম রিপ্লেসমেন্টের নামে নতুন গ্রাহকের কাছে সিম বিক্রি করে এ অর্থ ফাঁকি দেয়া হয়েছে বলে এনবিআরের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।