তুমি আছো বলেই

সবকিছু চলছে ঠিকঠাক, যেমন চলে—

নিয়ম করে লেখার টেবিলে বসা

কফি মগে চুমুক দিয়ে

দূরের আকাশ দেখা

অফিস যাওয়ার পথে

দীর্ঘ যানজটে বসে

উত্তর—উপনিবেশ দেশের

মিসম্যানেজমেন্টকে

মনে মনে গাল দেয়া

ড্যাশবোর্ড থেকে

আধপড়া বই বার বার খুলে

মনোযোগ দিতে না পারা—।

এসবের মধ্যে হঠাত্ তুমি এসে দাঁড়াও

সদ্য নির্মিত অট্টালিকার মতো

যার কক্ষ ও লবির সিলিং থেকে

ঝুলে পড়ে বিমূর্ত অয়েল পেইন্টিং

হলওয়েতে বেহাগের সরোবর

রিসেপশনে রামসিসের মূর্তির মতো

শিখরস্পর্শী ভালোবাসার পাহাড়।

আমি ওই অট্টালিকায় প্রবেশ করে

বিমূর্ত তৈলচিত্র হই

সরোবরে সাঁতার কেটে হই সুরেলা সরোদ

আমার সর্বাঙ্গে বয়ে যায়

হাজার ভোল্টের বিদ্যুত্ তরঙ্গ।

কেননা, তুমি আমার প্রাণশক্তির প্রধান স্পন্দন

নিশ্বাসে টেনে নেয়া শুদ্ধ অক্সিজেন;

তুমি আছো বলেই

নিয়ম করে লেখার টেবিলে বসা

কফি মগে চুমুক দিয়ে আকাশ দেখা

যানজটে বিরক্ত হতে হতে

আধপড়া বই অস্থির উল্টে যাওয়া।

 

তুমি আমার সুর জাগানিয়া মথুরা ও বৃন্দাবন

নিভৃত মন্দিরা

অবিরাম বেজে যাও বলেই

এই বেঁচে থাকা।