২৯ বছরেও পাবনা থেকে জমির কাগজ আসেনি
ফজল-এ-খোদা লিটন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৪, ২১:২৩
সিরাজগঞ্জ জেলার ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি এই জেলার সকল দলিলপত্র পড়ে আছে পাবনায়। অগণিত মামলা নিয়ে আইনী জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে জমির নকল পেতে জনগণকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
পাবনা থেকে পৃথক হয়ে সিরাজগঞ্জ জেলায় উন্নীত হয়েছে ২৯ বছর পূর্বে। কিন্তু এখনো পাবনা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে আগের (১৯৭০ সালের আগের) রেজিস্ট্রি দলিল ও বালাম বইসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সিরাজগঞ্জে আসেনি। এতে সিরাজগঞ্জবাসীকে কাগজপত্র অনুসন্ধান করতে ও জাবেদা নকল পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ জজ আদালত ও জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর পাবনা জেলার মহকুমা থাকাকালীন ১৯৮৪ সালে সিরাজগঞ্জ পৃথক জেলা হিসেবে উন্নীত হয়। পর্যায়ক্রমে জেলা পর্যায়ের সরকারি সব দপ্তর সিরাজগঞ্জে স্থাপিত হয়। কিন্তু ১৯৭০ সালের পরের দলিলপত্র, বালাম বইসহ অন্যান্য কাগজপত্র সিরাজগঞ্জে এলেও এখনো ৭০ সালের আগের জমিজমা সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র পাবনা জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে সিরাজগঞ্জে আসেনি।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ৭০-এর আগের একটি দলিল পাবনা কার্যালয়ে খুঁজে পেতে তিন থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়। ঘুরতে হয় মাসের পর মাস। রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধানমতে, প্রতি জেলা সদরের সাব-রেজিস্ট্রার সেই জেলার দলিলপত্র ও দলিলের জাবেদা নকল সরকারি কোষাগারে প্রয়োজনীয় ফি নিয়ে প্রদান করতে বাধ্য কিন্তু সিরাজগঞ্জের রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে ’৭০ সালের আগের কোনো বালাম বই, রেকর্ডপত্র না থাকায় সিরাজগঞ্জ থেকে কোনো দলিলের জাবেদা নকল দিতে পারছে না রেজিস্ট্রেশন কার্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শাহজাদপুর উপজেলার বাসিন্দা আলামিন হোসেন বলেন, পুরাতন দলিলের নকল পাওয়ার জন্য দুই বছরে আবেদন করছি। কতবার যে পাবনাতে ঘুরেছি, তার ঠিক নেই। কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, আজ না অন্য দিন আসেন। সাহেব নেই।
সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের আইনজীবী শহিদুল ইসলাম জানান, সিরাজগঞ্জ জেলা সদর থেকে পাবনা জেলার দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। এতো দূরত্বে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র সংগ্রহ সাধারণ জনগণকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। একটি কাগজের জন্য তাঁদের অনেকবার ঘুরতে হচ্ছে। এরপরও নানা কারণ দেখিয়ে কাগজপত্র দেয়া হচ্ছে না।