নজর কাড়লেন সাঁতারুরা
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৪, ২১:২৪
গ্লাসগোর কমনওয়েলথ গেমস এমনিতেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেই ছিল রঙিন। সেখানে যেন আরও খানিকটা বাড়তি রঙের ছটা নিয়ে হাজির হলেন সাঁতারুরা। প্রথম দিনেই তিনটা বিশ্ব রেকর্ড হলো গেমস সাঁতারে।
অলিম্পিক কিংবা কমনওয়েলথ গেমস তো দূরের কথা, ধারের কাছেই কোন প্রতিযোগিতায় পদক জয়ের অভিজ্ঞতা ছিল না হান্নাহ মিলের। ২৪ বছর বয়সী এই স্কটিশ সাঁতারুর কাছ থেকে তাই খুব বেশি আশা ছিল না। কিন্তু, প্রথম দিন শেষে আলো ছড়ালেন এই তরুণীই। শুধু স্বর্ণ জয়ই নয়, রীতিমত নতুন রেকর্ডই করে বসলেন। আগের রেকর্ড থেকে ব্যবধানটাও বিস্ময়কর — প্রায় সাত সেকেন্ড!
হান্নাহ ৪০০ মিটারের ব্যক্তিগত মেডলিতে সময় নেন চার মিনিট ৩১.৭৬ সেকেন্ড। ব্যাস, হয়ে গেল নতুন ইতিহাস। একই ইভেন্টে ইংল্যান্ডের অ্যাইমি উইলমোট জিতেছেন রূপা। আর তামা জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্যারিন ম্যাকমাস্টার।
দারুণ এক অর্জনের পর সাফল্যের পিছনে লন্ডন অলিম্পিকের অভিজ্ঞতাকেই সামনে নিয়ে আসলেন হান্নাহ মিলে, ‘আমার এতোদূর আসার পিছনে আমি লন্ডন অলিম্পিকের অভিজ্ঞতাকেই বড় করে দেখতে চাই। এই দুই বছরের সময়টা আমার জন্য নিজেকে গড়ে তোলার সময় ছিল। এই দুই বছর আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।’
আসছে আগস্ট মাসে ২৫ পা রাখতে যাচ্ছেন এই তরুণী। অল্প বয়সেই দারুণ এক অর্জন, যদিও মিলে বয়সটাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চাইলেন না, ‘খেলাধুলা এখন আর কোন বয়স মেনে হয় না। বয়স এখানে কোন সমস্যা নয়। এটা সবার খেলা। মন দিয়ে খেলতে হয়, পরিশ্রম করে যেতে হয়, জীবন দিয়ে লড়াই করতে হয়। আর সব কিছু ঠিকঠাক মত চললে বিজয় আসবেই।’
এখানেই শেষ নয়, প্রথম দিনের সাঁতারে ছিল আরও বড় কিছু চমক। প্যারা সুইমিংয়ে ১০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে নিজেরই করা আগের কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড ভাঙলেন অস্ট্রেলিয়ার রায়ান ক্রোদার্স। স্বর্ণ জয় করতে তিনি সময় নেন ৫৪.৫৮ সেকেন্ড।
এদিকে কমনওয়েলথ গেমসে কানাডাকে প্রথম স্বর্ণ এনে দিলেন সাঁতারু রায়ান কোর্চের গতবারও এই ইভেন্টটিতে স্বর্ণ জিতেছিলেন ২৫ বছর বয়সী এই সাঁতারু। এছাড়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও ছয়বার পদক জিতেছিলেন তিনি। ৪০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে গত বৃহস্পতিবার গ্লাসগোতে স্বর্ণ জিততে সময় নেন ৪৩.৪৬ সেকেন্ড। রূপা জয় করা অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ম্যাককন তার চেয়ে ০.৬৩ সেকেন্ড পিছিয়ে ছিলেন। ইভেন্টটিতে তামা জয় করেন ইংল্যান্ডের জেমস গাই।
প্রথম দিনটি কানাডিয়ান সাঁতারুদের জন্য বেশ সাফল্যমন্ডিতই ছিল। ৪০০ মিটার ফ্রি-স্টাইল রিলেতে ব্রোঞ্জ জয় করেছে কানাডার মেয়েদের দল। আর একই ইভেন্টে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা। দ্বিতীয় হয়েছে ইংলিশ মেয়েরা।
সাঁতার শেষ করতে মেয়েরা সময় নেয় তিন মিনিট ৩০.৯৮ সেকেন্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল নেদারল্যান্ডসের। ২০০৯ সালে ডাচ মেয়েরা তিন মিনিট ৩১ সেকেন্ড ৭২ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করে।
সাঁতারে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের আধিপত্য অবশ্য নতুন কোন ঘটনা নয়। সর্বশেষ লন্ডন অলিম্পিকে স্বর্ণ জয় করেছিল দলটি। এর বাদে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ থেকেও তারা ফিরেছিল রূপা নিয়ে।
প্রতিযোগিতা শেষে অস্ট্রেলিয়া দলের কোচ জ্যাকো ভারহেইরেন ছিলেন উচ্ছ্বসিত। একই সাথে তিনি মানছেন আরও উন্নতি সম্ভব, ‘আমি জানি আমার দলটা নিজেদের যোগ্যতা দিয়েই দারুণ এক অর্জন করেছে। কিন্তু, একই সাথে মনে রাখতে হবে যে, বাকি যারা আছে তারাও যথেষ্ট ভাল। আজকের (বৃহস্পতিবার) দিনটা হয়তে আমাদের ছিল কিন্তু, সাঁতার এমন একটা লড়াই যেখানে টাইমিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আরেকদিন হয়তো দেখা যাবে অন্য কোন দল ভাল করছে। তাই সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। নিজেদের আরও যোগ্য করে তুলতে হবে।’