অবচেতন মনে খেলেন নেইমার!
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৪, ২১:২৬
বার্সেলোনার হয়ে খেলা একটি ম্যাচে নেইমারের উপর চালানো হয় বেশ কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা। সেখানেই জানা যায়, নেইমার যখন বল পায়ে খুব দ্রুত তার পায়ের পাতা নাড়াতে থাকেন, তখন তার মস্তিষ্ক প্রায় কাজ করে না বললেই চলে। অর্থাত্, বল পায়ে নেইমার যে কাজগুলো করেন সেগুলো কোনটাই তার ইচ্ছাকৃত নয়, পুরোটাই করতে থাকেন অবচেতন মনে! গবেষকরা একে তুলনা করেছেন প্লেনের অটো-পাইলট অবস্থার মতো।
নেইমার যখন প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের পাশ থেকে বল নিয়ে ছুটে বেরিয়ে যান, তখন তার মস্তিষ্ক স্বাভাবিক অবস্থার চাইতে অন্তত দশগুণ নিস্ক্রিয় থাকে! অর্থাত্ এ সময় তার মস্তিষ্ক অপেশাদার কোন খেলোয়াড়ের তুলনায় শতকরা মাত্র দশভাগ কাজ করে। এই হঠাত্ নিস্ক্রিয়তাই নেইমারকে বল পায়ে একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের কৌশল দেখাতে সাহায্য করে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে নেইমারের মস্তিষ্কে পরিচালিত একটি পরীক্ষার ফলাফল গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেন একদল জাপানি গবেষক। সেখানেই জানানো হয় এই অবাক করা তথ্য।
গবেষক দলের অন্যতম সদস্য ইলিচি ন্যাটিও বলেন গতকাল শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এমআরআই পরীক্ষা থেকে আমরা জানতে পেরেছি, নেইমারের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা তখন একজন অপেশাদার খেলোয়াড়ের মস্কিষ্কের চেয়ে অন্তত দশভাগ কমে যায়। সম্ভবত জিনগত কারণেই এমনটা ঘটে থাকে তার ক্ষেত্রে। আর তার অনুশীলনের ধরনটাও তাকে এমন হতে সাহায্য করেছে।’
নেইমারসহ মোট ২২ জন বার্সেলোনা অ্যাথলেটের উপর গত ফেব্রুয়ারিতে বেশ কয়েক দফা পরীক্ষা চালানোর পরে, সুইস জার্নাল ফ্রন্টিয়ার্স ইন হিউম্যান নিউরোসাইন্সে মূল গবেষণাপত্রটি উপস্থাপিত হয়।
মাঠে যেভাবে অবলীলায় অবিশ্বাস্য সব কারিকুরি দেখান, চোখের পলকে অদ্ভুত সব বডি ডজে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের বাধা পেরিয়ে যান; তাতে নেইমারের মস্তিষ্কের অসাধারণ কর্মদক্ষতার কথাই হয়তো ভাবেন সবাই। কিন্তু ন্যাটিও নিশ্চিত করলেন নেইমারের ক্ষেত্রে ঘটে ঠিক তার উল্টোটি।
বাড়তি কোন কাজ তো নয়ই বরং মস্তিষ্কের অত্যাধিক নিস্ক্রিয়তাই নেইমারকে মাঠে অসাধারণ সব কৌশল দেখাতে সাহায্য করেন জানিয়ে এই জাপানি গবেষক বলেন, ‘আমাদের পাওয়া তথ্য প্রমাণ বলছে, নেইমারের ফুটবল মস্তিষ্ক খুব কম পরিমাণ নিউরোনের (স্নায়ু কোষ) সাহায্যই এসময় গ্রহণ করে। আর মস্তিষ্কের উপর চাপ যত কম পড়বে আপনি তত বেশি পরিমাণ মানসিক বোঝা বহন করতে সক্ষম হবেন। ফলে একই সময়ে আপনি বিচিত্র সব কাজ করতে পারবেন। আপনার মস্তিষ্ক তখন অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। আমাদের বিশ্বাস এই ব্যাপারটাই নেইমারকে অদ্ভুত সব ডজ দিতে সাহায্য করে।’
ন্যাটিওর বিশ্বাস নেইমারের বার্সেলোনা সতীর্থ লিওনেল মেসি এবং রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মস্তিষ্কও প্রায় একই ধরনের ফলাফল দেখাবে, ‘তাদের পায়ের কাজ এবং কৌশল দেখে এটা মনে করাই যুক্তিসংগত যে, তাদের (মস্তিষ্কের) ক্ষেত্রেও একই ধরনের ফলাফল পাওয়া যাবে।’