পীরগঞ্জে চাল বিতরণে চেয়ারম্যানকে ধাওয়া
পীরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৪, ২১:২৭
পীরগঞ্জে ঈদ পূর্ব ভিজিএফের চাল বিতরণে নানামুখী দুর্নীতি-অনিয়ম করায় জনতার রোষানলে পড়ে ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে বাঁচলেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব। গত বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার বড়দরগাহ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ওই ইউনিয়নের ৪ হাজার ৫শ’ সুবিধাভোগীর জনপ্রতি ১০ কেজি করে ৪৫ মে. টন চাল বরাদ্দ দেয়া হলে গত ২২ জুলাই থেকে তা বিতরণ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার চাল বিতরণের শেষ দিনে গড়িমশি করে কালক্ষেপণ করে দুপুরে চাল বিতরণ শুরু হয়। ফলে চাল নিতে আসা সুবিধাভোগীদের ভীড় বাড়তে থাকে। বিকাল শেষে ৫ শতাধিক সুবিধাভোগী টোকেন হাতে দাঁড়িয়ে থাকলেও হঠাত্ চাল নেই অজুহাতে বিতরণ বন্ধ করা হয়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান-সরওয়ার জাহান মাখন ও সচিব- আব্দুল হালিমের সাথে টোকেনধারীদের বাকবিতণ্ডতা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবকে ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাতেই এ ঘটনায় ওই ইউপির সদস্য-আব্দুল মালেক, আনওয়ারুল, বজলার, মোকসেদ, আনওয়ারা, সামসুন্নাহার ও আবু তাহের যৌথ স্বাক্ষরে চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় চাল আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ দেন। চাল বঞ্চিত টোকেনধারী দানিয়েলপাড়ার বাবুল, হামিদ, মাজেদ, আমিনুর, রাখু, হাফিজার, মকিমপুরের মন্টু, রোস্তম, জিয়ারুল, কায়রো, রজ্জব বলেন, রোজা মুখে সকাল থেকে টোকেন হাতে দাঁড়িয়ে থাকার পরেও গরিবের কপালে চাল জোটে নি। ইউপি চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান মাখন জানান, আমার বিনাঅনুমতিতে সচিব আব্দুল হালিম ৫শ’ টোকেন বিতরণ করায় এ সমস্যা দেখা দেয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম জিয়াউল ইসলাম বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা-শরফুল ইসলাম বলেন, চাল বিতরণের ৩য় দিন বৃহস্পতিবার আমি গুদামঘরে প্রাপ্ত মজুদ চাল বিতরণ শেষে অফিসে আসি। এরপর কি ঘটেছে জানি না।