কোটা ও সরকারি চাকরি

যে কোনো দেশের সার্বিক উন্নতির প্রধান নিয়ামক হলো সুশাসন। সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের বিকল্প আর কিছুই নেই। প্রশাসনের সর্বনিম্ন স্তর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর যৌথ প্রয়াসে সফল হয় একটা রাষ্ট্রযন্ত্র। জনগণের সর্বাধিক কল্যাণ সাধন কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের একমাত্র লক্ষ্য। তাই বলে অযোগ্য ও মেধাহীন ব্যক্তির প্রতি দয়া, করুণা দেখাতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের ও সম্পদের অপব্যবহার রাষ্ট্রকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। পিছিয়ে পড়া বা অসহায় জনগণকে রাষ্ট্রীয় সাহায্য ও ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বাধিক অগ্রাধিকার প্রদান করা যেতে পারে। কিন্তু বাড়তি সুবিধা প্রদানের জন্য পুরো দেশের প্রশাসনিক দায়িত্ব তুলে দেওয়া যায় না। স্বাধীনতার পর থেকে চল্লিশ বছর ধরে সরকারি চাকরিতে কোটাভিত্তিক নিয়োগ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ অথবা প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে নিয়োগের ফলাফল আমরা স্পষ্টতই দেখতে পারছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরবও অর্জন করেছি বিভিন্ন প্রকার প্রশাসনিক বিভাগের বদৌলতে। তাই আমরা মনে করি যে, রাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা, উপজাতি, প্রতিবন্ধী ইত্যাদি গোষ্ঠীর মানুষকে ইচ্ছেমতো রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা, সম্পদ, আরাম-আয়েশ, ক্ষমতা দান করুক তাতে কারো আপত্তি থাকবে না। তবে রাষ্ট্রের সত্যিকার মঙ্গলের জন্য দল মত বর্ণ নির্বিশেষে মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা দেশপ্রেমের শামিল বলে মনে করি। পার্থিব সুখ ভোগের জন্য কোটা পদ্ধতি বহাল রাখার দাবি দেশকে পিছিয়ে রাখার দাবি ছাড়া আর কিছু নয়। মেধাভিত্তিক প্রশাসনের সমকক্ষ আর কিছুই নয়। কোটা পদ্ধতি বাতিল করা সময়ের দাবি। হবিগঞ্জ