মূল্যস্ফীতি ঠিক রেখে বিনিয়োগ বাড়ানোই মূল চ্যালেঞ্জ

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে আজ শনিবার। নতুন মুদ্রানীতির ধরন আগের মতোই ভারসাম্যপূর্ণ রেখে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর তাগিদ থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ড. আতিউর রহমান মুদ্রানীতি বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নতুন মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতির হার কমানো, টাকার সর্বোত্তম ব্যবহার, কর্মসংস্থান বাড়ানোর দিকেও বিশেষ নজর থাকবে। আর উত্পাদন বাড়িয়ে কিভাবে আমদানি নির্ভরতা কমানো যায় সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা থাকবে। রফতানি প্রবৃদ্ধি ও নতুন বিনিয়োগে গতিশীলতা আনতে প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিও থাকবে অব্যাহত। কৃষি ও এসএমই খাতগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থায়নসহ আর্থিক খাতের সেবার আওতায় দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে আনার জন্য মুদ্রা ও ঋণনীতি সক্রিয় থাকবে। এগুলোই হবে এবারের ফোকাল পয়েন্ট। অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অপচয়ী এবং অনুত্পাদনশীল খাত যেমন বিবাহ ঋণ, বিলাসী পণ্য ক্রয় খাতে ঋণের প্রসার নিরুত্সাহিত করা হবে। এ ছাড়া প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা মুদ্রানীতিতে উল্লেখ থাকবে। সর্বোপরি, চলতি অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এ নীতি ঘোষণা করা হবে। বাজেটে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে নানামুখী প্রস্তাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ প্রবাহের মাধ্যমে এগুলো উত্সাহিত করা হবে। তারই অংশ হিসাবে বাজারে ঋণের চাহিদা বাড়াতে ঋণের সুদের হার কমানোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। কমবে আমানতের সুদের হারও। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ছয় মাস অন্তর আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করে থাকে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে তার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। মুদ্রানীতি চুড়ান্ত করতে অন্যান্য বছরের মত এবারও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বিশিষ্ট ব্যাংকার, প্রাক্তন গভর্নর, প্রাক্তন মন্ত্রী, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট, সাবেক অর্থ উপদেষ্টা, সাবেক সচিবসহ মুদ্রানীতি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।