গল্পে শিখি ব্যাকরণ

বর্ণ চেনা কঙ্কন সরকার সাবেক সহযোগি শিক্ষক শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাইবান্ধা। গতকালের পর অর্ক : দাদু,যাদের টাকা আছে তাদের ধনি বলে, না? পিউ : বর্ণ মানে তো রং,তাই না দাদু? দাদু : ধনি আর বর্ণ নিয়ে কী হলো দু’জনের? অর্ক : স্যার বলেছে একদিন ধনি নিয়ে আলোচনা হবে। দাদু : ও তাই। ঠিক আছে তোমার কথা। কিন্তু স্যারের ‘ধ্বনি’ এ ‘ধনি’ নয়। স্যারের আলোচনার ধ্বনি হচ্ছে ব্যাকরণ ধ্বনি। যা ভাষার ক্ষুদ্রতম একক। কয়েকটি ধ্বনি মিলে অর্থ তৈরি হয়। আরও সহজ হচ্ছে Sound এর বাংলা ধ্বনি। এই ধ্বনিকে কিন্তু ভাষার মুল ভিত্তি বলে। পিউ : বর্ণেরও কি এমন কিছু দাদু? দাদু : আছে। এই যে ধ্বনি মুখ দিয়ে উচ্চারিত হয় তাকেও ধরে রাখতে হয়। পিউ : কেন মেমোরি কার্ড, মোবাইল ফোনে তো ধরে রাখা যায়। দাদু : হেসে হেসে বললেন, ঠিক আছে। কিন্তু কোনটি কী,তা কী বোঝা যাবে? আলাদা করে বুঝতে হবে না। তাই পন্ডিতগণ ধ্বনিগুলোকে চিহ্ন দিয়ে ধরে রেখেছেন। এগুলোকে প্রতীকও বলে। এগুলো ছাড়া প্রকাশ করব কিভাবে? যেমন অ, আ, ক, খ, গ এগুলো ধ্বনির চিহ্ন বর্ণ। অর্ক : দাদু বাংলা ভাষায় কতগুলো বর্ণ আছে? দাদু : তোমাদের পাঠ্য বইয়ে ৫০টি বর্ণ আছে। স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জণবর্ণ ৩৯টি। বর্ণ আলোচনায় একটি বর্গীয় ব এবং অন্যটি অন্তঃস্থ ব দেখা যায়। তবে আকৃতিতে বর্গীয় ব থেকে অন্তঃস্থ ব আলাদা করা যায় না। প্রাচীন যুগে এ দুটির রূপ ও ধ্বনি উভয়ই ছিল পৃথক। অর্থাত্ প- বর্গের ব তখন ছিল ব আর অন্তঃস্থ ব ছিল ‘উঅ’। এখন বাংলায় অন্তঃস্থ ব এর ব্যবহার খুবই সীমিত। এ সংযুক্ত ধ্বনি সাধারণত ব্যঞ্জনের পরে ব-ফলা রূপে এ অন্তঃস্থ ব উচ্চারিত হয়। এজন্য বাঙলা ব্যঞ্জণ বর্ণ ৩৯টি। মোট বর্ণ ৫০টি। তাহলে এগুলো ব্যবহার করে শব্দ গঠিত হয়। এই যে কথা বলছি সেগুলো তৈরি হয়। অর্ক :বর্ণগুলোর কতগুলো নাকি একাই উচ্চারিত হয়? দাদু : ঠিক বলেছ। ১১টি একাই উচ্চারিত হয়। আর এগুলোকে স্বরধ্বনি বা স্বরবর্ণ বলে। যেমন: অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ । আর ৩৯টি বর্ণ এই স্বরবর্ণগুলো ছাড়া উচ্চারিত হয় না। মানে সাহায্য নেয়। এগুলোকে ব্যঞ্জণ বর্ণ বলে। এগুলো হচ্ছে- ক খ গ ঘ ঙ চ ছ জ ঝ ঞ ট ঠ ড ঢ ণ ত থ দ ধ ন প ফ ব ভ ম য র ল শ ষ স হ ড় ঢ় য় ত্ ং ঃ পিউ : আচ্ছা দাদু, সবাই বলে বর্ণমালা। এখানে মালার...? দাদু : ও মালা! বলছি শোন, অনেক ফুল সুতা দিয়ে গেঁথে যেমন মালা হয় তেমনি সব বর্ণগুলোকে একত্রে বর্ণমালা বলে। ভালো কথা, তোমরা কী দেখেছ, কোন কোন বর্ণে মাত্রা নেই! কোন কোনটির অর্ধেক মাত্রা আছে। এগুলো তোমরা দু’জনে খুঁজে বের করতো দেখি। অর্ক : আমরা বের করছি। তবে দাদু, এবার সাজিয়ে বলেন তো সব কিছু। দাদু : বলছি, বলছি শোন, বর্ণ- ধ্বনির চিহ্ন বা প্রতীককে বর্ণ বলে। স্বরবর্ণ- যে বর্ণ গুলো একাই উচ্চারিত হয় তাকে স্বরবর্ণ বলে। ব্যঞ্জণবর্ণ-যে বর্ণ স্বরবর্ণের সাহায্য ছাড়া উচ্চারিত হতে পারে না তাকে ব্যঞ্জণ বর্ণ বলে। বর্ণমালা-বাংলাভাষার সব বর্ণগুলোকে একত্রে বর্ণমালা বলে। মাত্রা- বর্ণের উপর যে রেখা বা কষি থাকে তাই মাত্রা। দুজনে: দাদু, বের করেছি আমরাও- পুর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি- অ আ ই ঈ উ ঊ ক ঘ চ ছ জ ঝ ট ঠ ড ঢ ত দ ন ফ ব ভ ম য র ল ষ স হ ড় ঢ় য়। অর্ধমাত্রা বর্ণ ৮টি- ঋ খ গ ণ থ ধ প শ। মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি- এ ঐ ও ঔ ঙ ঞ ঁত্ ঃ ং । অর্ক : এগুলো তো দেখি ভারি মজার। ওহ্ দাদু, কোথাও কোথাও দুটি বর্ণ একত্রে হয়ে দেখা যায়। এগুলো... দাদু : তোমরা তো দেখি ব্যকরণকে মজার পাঠ বানাতে চাচ্ছ। শোন, একদিন পিউ না অর্ক বলেছিলে তোমাদের শ্রেণিতে তন্ময় নামে একজন ভালো ছাত্র আছে। অর্ক : আমিই বলেছি। তো তার কী হয়েছে দাদু? পিউ : মানে? দাদু : মানে হচ্ছে, তন্ময় উচ্চারণের মাঝে জোড়া উচ্চারণ হয়। অর্থাত্ ‘ন্ম ’একসাথে। তাই না? অর্ক : হ্যাঁ দাদু। পিউ : জোড়া উচ্চারণ হয়েছে তো তাতে কী? দাদু : এটাই যুক্ত বর্ণ। অর্থাত্ দু’টি আলাদা বর্ণ একসাথে যুক্ত হয়ে উচ্চারিত হয়। আরও উদাহরণ দিচ্ছি-