শরীয়তপুরে হামলা লুট, অগ্নিসংযোগ

শরীয়তপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি লোকমান মাদবরের (৩৮) লাশ ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার আগানগর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর জের হিসাবে তার সমর্থকরা প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ লোকমানের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। দুপুর ৩টার দিকে তার সমর্থকরা সদর উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামে হামলা চালায়। প্রতিপক্ষের ১৫টি ঘর ভস্মীভূত হয়। শরীয়তপুর সদর থানা সূত্র জানায়, সদর উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের সিরাজ মাদবরের পুত্র লোকমান মাদবর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি। শনিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ দুপুর ১২টার দিকে আগানগর এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে লোকমান মাদবরের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে। এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পরলে তার সমর্থকরা তাদের প্রতিপক্ষ দুলাল বেপারী, জুলহাস মাদবর, কালাচান মাদবর, সুলতান মাদবর, খোকন বেপারী, জাহাঙ্গীর মাদবর ও জয়নাল মাদবরের বাড়ীতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ীর ১৫টি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। বাড়ীর আসবাবপত্রসহ জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়। ২০০৮ সালের ২৫ জানুয়ারি লোকমানের চাচা শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও চিকন্দী শরফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামাদ মাষ্টারকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সামাদ মাষ্টার হত্যাকাণ্ডের মামলাটি লোকমান পরিচালনা করছিলেন। এরপর থেকেই ওই মামলার আসামিরা লোকমানকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। লোকমানের স্ত্রী শেফালী বেগম বলেন, চাচার হত্যা মামলাটি পরিচালনা করার কারণে আসামিরা কয়েক দফা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। তাদের ভয়ে সে প্রায়ই বাড়ি থেকে বিভিন্নস্থানে পালিয়ে থাকতো। পাষণ্ডরা আমার স্বামীকে বাঁচতে দিলো না। লোকমানের ভাই উথান মাদবর বলেন, শুক্রবারও মুঠোফোনে ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে। চাচার হত্যাকারীরাই পরিকল্পনা করে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। তার মাথায় বেশ কয়েকটি কোপের চিহ্ন রয়েছে। ঢাকার স্যার সলিমুল্যাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মরদেহ রয়েছে। সন্তোষপুর গ্রামের জয়নাল মাদবর বলেন, স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে তাদের সাথে আমাদের দ্বন্দ্ব রয়েছে। কিন্তু কোন হত্যাকাণ্ডের সাথেই আমরা জড়িত নই। উদ্দেশ্যেমূলকভাবে আমাদের বাড়িতে হামলা দিয়ে লুটপাট করে ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এহসান শাহ বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঢাকায় ঘটেছে। এলাকায় এ খবর ছড়িয়ে পরলে কয়েকটি বাড়িতে হামলা অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঐ গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।