গাজায় নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়ালো

গাজায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও ফিলিস্তিনি হামাস গোষ্ঠী ১২ ঘন্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও হামাস উভয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কয়েকটি দেশ এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়। তবে যুদ্ধবিরতির আগেই নিহতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়েছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের। যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও হামাসের সুড়ঙ্গগুলো তল্লাসি অব্যাহত রাখবে ইসরাইল। ইসরাইল এটিকে একটি মানবিক সুযোগ হিসেবেই দেখছে। হামাস পাল্টা আঘাত করলে আবারো অভিযান চালানো হবে বলে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, যে সব নাগরিক বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র গেছে তাদের ফিরে আসা ঠিক হবে না। অন্যদিকে গাজায় দীর্ঘমেয়াদী একটি যুদ্ধবিরতির উপায় বের করতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের এক বৈঠক প্যারিসে শুরু হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিসহ বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ, তুরস্ক এবং কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এতে যোগ দিচ্ছেন। এর আগে কেরি সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন। শুরুতে ওই প্রস্তাবের বেশিরভাগ দিকই হামাসের পক্ষে গেছে দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবার পর থেকে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলো থেকে অন্তত ৮৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতির খবর শোনার পর গাজার মানুষকে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। নিহতদের লাশ দাফনেরও তোড়জোর দেখা যায়। দোকানপাট খুলেছে। গত ৮ই জুলাই শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি। ইসরাইলি পক্ষে নিহত হয়েছে মোট ৩৯ জন। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, আর সময় নেই। ৪৭ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ এবার চিরতরে বন্ধ করার সময় এসেছে।