প্রযুক্তি যেন বিভক্তি ও বৈষম্য তৈরি না করে

উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে এশিয়া তথা বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য প্রযুক্তি বড় নিয়ামকের ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু মানুষকে বাদ দিয়ে প্রযুুক্তিনির্ভর হলে তা বিভক্তি ও বৈষম্য তৈরি করতে পারে। গত শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনে ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্স (ডিএসসিই) আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। ‘উদ্যোক্তার উন্নয়নে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও বিপণন কৌশলের ভূমিকা’ শীর্ষক ওই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ ও পল্লি কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।  ডিএসসিইর উদ্যোক্তা অর্থনীতি কোর্সের সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলীর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রযুক্তিবিদ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও উদ্যোক্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেন।

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, প্রযুক্তির কারণে বিভক্তি ও বৈষম্য যেন না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। কেননা এখনো বিশ্বমানের প্রযুক্তিগুলো গুটিকয়েকের হাতেই বন্দি রয়েছে।

প্রফেসর মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, বাংলাদেশে উদ্যোক্তার উন্নয়নে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের উন্নয়ন ও যুগোপযোগী বিপণন কৌশল গ্রহণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কর্মসংস্থানের চাহিদা অনুসারে শিক্ষা ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নে জোর দিতে হবে। প্রযুক্তির ও বিপণন কৌশলগুলোকে প্রায়োগিক হতে হবে। এছাড়া ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে বিনিয়োগে আনতে কম্যুনিটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হলে তা সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে উত্সাহিত করবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী, ডিএসসিইর উদ্যোক্তা অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেহানা পারভীন ও সারাহ তাসনীম প্রমুখ।

সেমিনারে দুটি বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসিআই ফরমুলেশনস লিমিটেডের পরিচালক এম. সামসুজ্জামান ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর ফোরথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশনের সহ-সভাপতি সৈয়দ তামজিদ উর রহমান। এ সময় ‘সমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধি: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।