গল্প নয় সত্যি

শিশুতোষ প্রশ্নের কারণে...

আকাশ কেন নীল? কিংবা গাছের পাতা কেন সবুজ? বাবা কেন মা’কে বিয়ে করেছিল? কিংবা দাদুর কেন চুল পাকা? এমনতর কত প্রশ্নই তো হররোজ করতে থাকে শিশুরা। এসব প্রশ্নের সংখ্যা যদি বেশি হয় তাহলে হয়তো কেউ কেউ কপট রাগ করেন। কিন্তু তাই বলে শিশুতোষ সব প্রশ্নের কারণে কেউ কখনো শিশুদেরকে শাস্তি দিয়েছেন, এমনতর নিষ্ঠুরতার কথা সচরাচর শোনা যায় না। আর শোনা যায় না বলেই, এ ধরনের ব্যতিক্রমী এক কাণ্ড ঘটিয়ে এবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন আমেরিকার কানেক্টিকাট অঙ্গরাজ্যের মনরো শহরের এক রেস্টুরেন্ট মালিক। শিশুতোষ আর অবান্তর প্রশ্ন করার অপরাধে তিনি তার দোকানে ৪ বছর বয়সী এক শিশু ও তার মা’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, স্থানীয় অধিবাসী রেবেকা ডানহাম ও তার চার বছর বয়সী শিশু জাস্টিন ওটেরো কিছুদিন আগে ডোনাট ইন নামের একটি দোকানে যান। সেখানে জাস্টিন এক মহিলাকে দেখে হঠাত্ করেই জিজ্ঞাসা করে বসে যে সে গর্ভবতী কি না? উত্তরে ঐ মহিলা না বলার পর জাস্টিন সাথে সাথেই বিষয়টির জন্য ক্ষমা চায় এবং মহিলাটিও একটি শিশুর মুখ থেকে এমনতর প্রশ্ন বা এরপর দুঃখ প্রকাশের কথা শুনে বিষয়টি নিয়ে তেমন কিছু মনে করেননি। বরং জাস্টিনকে আদর করে দিয়েই ঐ দোকান থেকে তার কাজ শেষ করে বেরিয়ে যান তিনি। তবে এই ঘটনার সূত্র ধরে পরবর্তী দিন যখন রেবেকা ডানহাম ও তার ছেলে জাস্টিনকে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতে দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাদেরকে তার দোকানে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন তখন যার পর নাই অবাক হন রেবেকা। এর কারণ জানতে চাইলে ঐ মালিক জাস্টিনকে ‘রূঢ়’ ছেলে হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং পরবর্তী সময়ে তাকে আর এই দোকানে না নিয়ে আসতে বলেন। এদিকে এই ঘটনার পর পরই ডোনাট ইনের ফেসবুক পেজ থেকে তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয় এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া খবরটিকেও অতিরঞ্জিত বলে দাবি করা হয়। যদিও রেস্টুরেন্টটির ম্যানেজার ঐ পেজটিতে তাদের পক্ষ থেকে কোনো লেখা দেওয়া হয়নি দাবি করেন এবং সেই থেকে পেজটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিকে ঘটনার পরে, একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে মা রেবেকা ডানহাম জানান, সেদিন জাস্টিন কিছু এলোমেলো প্রশ্ন করলেও এটি নিয়ে কেউ কিছু মনে করেনি এবং ঐ দোকানটির মালিকের পক্ষ থেকেও তখন তাদেরকে কোনো ধরনের সতর্কতার কথা বলা হয়নি। তিনি আরও বলেন, একটি শিশুর নিস্পাপ কৌতুহলের শাস্তি কখনোই এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা হতে পারে না।