জীবননগরে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্যাতনে এক যুবক মৃত্যুশয্যায়

উপজেলার ধোপাখালীতে চোরসন্দেহে নিরপরাধ দিনমজুর এক যুবকের উপর মধ্যযুগীয় নির্যাতন চালিয়েছে এক ইউপি চেয়ারম্যান। উথলী ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ব্যবসায়ীক ম্যানেজার এবং তার সেনাসদস্য জামাতা মিলে চুরির বদনাম দিয়ে নিরপরাধ দিনমজুর বাবুর আঙ্গুল হতে নক তুলে ফেলে হাত-পা বেঁধে তাকে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়া হয়। পরে জাল টেনে আবার উপরে তোলা হয়। এসময় মোমবাতি জ্বালিয়ে নাকের ভেতর আগুনের আঁচ দিয়ে তার নিকট থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করার প্রচেষ্টা করা হয়। কিন্তু স্বীকারোক্তি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে শেষঅবধি শারীরিকভাবে অক্ষম ইউপি চেয়ারম্যান তার বুকের উপর উঠে দাঁড়িয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে। এতে তার বুকের পাজরের হাড় ভেঙ্গে যায়। পৈষাচিক এ নির্যাতন দেখে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে গ্রামবাসী। একপর্যায়ে তারা বাবুকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী এসময় চেয়ারম্যানের জিপ গাড়ি ভাংচুর ও তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে পরে তিনি সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে আসেন। মুমূর্ষু অবস্থায় গ্রামবাসী বাবুকে উদ্ধার করে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। শনিবার অমানুষিক এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। আহত বাবু এসময় মাঠে মজুরি খেটে বাড়ি ফিরছিলো। হাসপাতালে ভর্তি বাবুর অবস্থার অবনতি হলে গতকাল রবিবার তাকে চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। কিন্তু প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান রাস্তার মধ্য হতে তাকে ধরে এনে আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে রাখে।