জাতীয় ঈদগাহ্ ময়দান প্রস্তুত
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০১৪, ২১:৩৩
মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উত্সব পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান। হাইকোর্ট সংলগ্ন বিশাল এই মাঠে হবে প্রধান ঈদ জামাত।
বরাবরের মত এই ঈদ জামাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি ও কূটনীতিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এক কাতারে নামাজ আদায় করবেন।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব অধ্যাপক মাওলানা মো. সালাহউদ্দিন।
গতকাল রবিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদ জামাতের জন্য সুসজ্জিত করা হয়েছে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে। প্যান্ডেল তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট জাতীয় ঈদগাহ ময়দানটি প্রস্তুত করতে ৮০ জন শ্রমিক নিরলসভাবে কাজ করেছেন। গত পাঁচ রমজান থেকে ঈদগাহে প্যান্ডেল নির্মাণ কাজ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স পিয়ারু সর্দার এণ্ড সন্স ডেকোরেটরের ম্যানেজার মোজাম্মেল হক।
তিনি বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো আমরা ঈদের নামাজের জন্য ঈদগাহ প্রস্তুতির কাজ পেয়েছি। গত ৮ থেকে ৯ বছর ধরে আমরা ঈদগাহ প্রস্তুতির কাজ করে আসছি।
মোজাম্মেল হক জানান, ত্রিপল টাঙ্গানোর কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। বৃষ্টিতে যাতে সমস্যা না হয়, সেজন্য উপরে দেয়া হয়েছে মোটা ত্রিপলের ছাউনি। পানি নিষ্কাশনের জন্য রাখা হয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এছাড়া মাঠের বাইরের অংশে নতুন করে চুনকাম করা হয়েছে। ঈদগাহকে পুরোপুরি নামাজের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহের সার্বিক বিষয়গুলো দেখাশুনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন খান ইত্তেফাককে বলেন, জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে ১ লাখ ২০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মুসল্লিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
মুসল্লিদের সুবিধার্থে ৪৭০টি সিলিং ফ্যান ও ৪৬৪টি বাতি লাগানো হয়েছে। ঈদগাহ মাঠের পূর্বপাশে থাকছে পানি ও অজুর ব্যবস্থা। অজুখানায় একসঙ্গে ১৬০ মুসল্লি অজু করতে পারবেন। এছাড়া ভিআইপি মুসল্লিদের জন্য একটি টয়লেটের ব্যবস্থা থাকবে।
জাতীয় ঈদগাহে নারীদের ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য পর্দা দিয়ে আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। আলাদা ব্যবস্থা থাকছে কূটনৈতিক মিশনের সদস্য ও তাদের স্ত্রীদের জন্যও।
এছাড়া ঈদগাহ ময়দান জুড়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। সরাসরি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছাড়াও সাদা পোশাকে থাকবে গোয়েন্দা পুলিশ। আর সিসি ক্যামেরা দিয়ে পুরো বিষয় তদারকি করা হবে।