ঈদে ছয় দিন পণ্য পরিবহন বন্ধের ঘোষণায় শঙ্কায় লিচু ব্যবসায়ীরা

পাবনার লিচু বাগানগুলো এখন লিচু কেনাবেচায় দূর-দূরান্তের পাইকার আর ব্যাপারীদের আনাগোনায় সরগরম। অনুকূল আবহাওয়ায় হয়েছে ভালো ফলন, মিলছে ভালো দামও। তবে ঈদের ছুটিতে মহাসড়কে পণ্য পরিবহন বন্ধের ঘোষণায় চিন্তায় পড়েছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

মৌসুমী এ ফলটির ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সাফল্যে লিচুর চাষ ছড়িয়ে পড়েছে জেলার সবকটি উপজেলায়। বেড়েছে চাষের পরিসর। গত মৌসুমে ৪ হাজার ৯৯ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হলেও এ বছর যোগ হয়েছে আরো ২শ হেক্টর। অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলনে খুশি কৃষক-বাগান মালিকরা। রমজানে চাহিদা কিছুটা কম হলেও বেচাকেনার বাজারদরে অখুশি নন তারা। গাছ থেকে লিচু নামানো, তা ঝাঁকা বোঝাই করে পাঠানোতেই এখন বাগান মালিকদের ব্যস্ততা।

এদিকে দেশি জাতের লিচুর পর এখন বাজারে আসতে শুরু করেছে বোম্বাই, চায়না থ্রি, মোজাফফরি ও হাড়িয়া লিচু।

চট্টগ্রাম থেকে পাবনার তিনগাছা বাবুর বাগানে লিচু কিনতে আসা ব্যবসায়ী বাদল হোসেন জানান, গত আট বছর ধরে তিনি পাবনা থেকে লিচু কিনে ব্যবসা করেন। তবে চলতি বছরের মতো ভালো ফলন তিনি দেখেননি। রমজানেও বেচাকেনা খুব খারাপ হয়নি। রমজানের পর বাজার ধরতে পারলে আরো লাভবান হবেন বলে জানান তিনি। ঈদের আগে ও পরে ছয়দিন পণ্য পরিবহন বন্ধ এবং ধর্মঘটের ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর এলাকার লিচু ব্যবসায়ী উজ্জ্বল হোসেন জানান, বিভিন্ন ব্যাংক ও সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে তিনি তিনটি বাগানে তিনশটি লিচু গাছ কিনেছেন। বাজার ভালো হলেও এখনো বিনিয়োগের টাকা ওঠেনি। এখন পাকা ফল ঈদে ছয়দিন গাড়ি বন্ধ থাকলে তার ক্ষতি হবে। এমনই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সদর উপজেলার আবু তালেব, জাহেদ আলী, বাচ্চু মোল্লাসহ এ অঞ্চলের সকল বাগান মালিক, পাইকার ও ব্যবসায়ী। পচনশীল পণ্যটি পরিবহনে সরকারের বিশেষ অনুমোদন চান তারা।

পাবনার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শাফিউল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, লিচু ব্যবসায়ীদের সমস্যা বাণিজ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থায় লিচু পরিবহনে সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করা যায়।