নিরুত্তাপ কলমানি মার্কেট
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০১৪, ২২:৫৫
সাধারণত ঈদের আগে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার প্রয়োজন হয় অনেক বেশি। তাই গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ যোগান দিতে এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের কাছ থেকে টাকা ধার করে। উদ্বৃত্ত টাকা থাকলে এসময়ে অন্য ব্যাংকে ধার দিয়ে বাড়তি টাকা আয়ের সুযোগ হয় ব্যাংকগুলোর। কিন্তু এবছর ব্যাংকগুলোতে প্রচুর তারল্য উদ্বৃত্ত থাকায় অন্য ব্যাংকের কাছ থেকে ধার করার প্রয়োজন পড়ছে না। ফলে কলমানি মার্কেটে (স্বল্প সময়ের জন্য আন্তব্যাংক লেনদেন) সুদের হারও ছিল স্বাভাবিক। অন্যদিকে ঈদের আগে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়নি। বরাবরের মতো ঈদের আগে গ্রাহকদের নগদ অর্থের চাহিদা মেটাতে ব্যাংকগুলো হিমশিমও খেতে হয়নি। গতকাল মতিঝিলের ব্যাংক পাড়ায় ঘুরে তেমন চিত্র চোখে পড়েনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত কলমানি মার্কেটে সুদের হার আট দশমিক ২৫ শতাংশের বেশি ওঠেনি। গতবছর ঈদুল-ফিতরেও কলমানিতে সুদের হার ছিল ৯ শতাংশের আশেপাশে। চার বছর আগে ২০১০ সালের ১৯ ডিসেম্বরে কলমানি মার্কেটে সুদের হার ১৯০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। পরের বছর কলমানি মার্কেটে সুদের হার চড়া হলেও গত দু’বছর থেকে বন্ধ হয়েছে রমরমা এ কারবার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখার মহাব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম খান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে বাজারে ছাড়ার জন্য ২২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে ব্যাংকগুলো নিয়েছে ১৮ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। এরমধ্যে নতুন টাকা নিয়েছে নয় হাজার ৯৫৬ কোটি। বাংলাদেশ ব্যাংকে অন্যান্য ব্যাংকের রক্ষিত হিসাব থেকে এ টাকা নেয় ব্যাংকগুলো। এবছর চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকগুলো কম টাকা নিয়েছে।
পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশের (এবিবি) ভাইস চেয়ারম্যান হেলাল আহমদ চৌধুরী জানান, ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য থাকায় এবার কলমানি মার্কেটে টাকার চাহিদা কিছুটা কম। যে চাহিদা আছে তা মিটাতে সমস্যা হচ্ছে না। এ কারণে কলমানি মার্কেটে সুদের হার স্বাভাবিক।
গত এক সপ্তাহের মধ্যে গত বুধবারই কলমানি মার্কেটে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে। এদিন লেনদেন হয় ছয় হাজার ৮৪১ কোটি ৫০ হাজার টাকা।
ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখতে হবে
ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ঈদের কেনাকাটাসহ অন্যান্য লেনদেনের জন্য নগদ টাকা জোগাড় করতে গিয়ে বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। গ্রাহকদের ভোগান্তি যাতে আর না হয় সেজন্য এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ টাকার সরবরাহ রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে গতকাল নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।