হিংসা-দ্বেষ সত্ আমল নষ্ট করে দেয়
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২১:৩৩
রসূলে পাক (স.) বলেছেন, হিংসা-বিদ্বেষ নেকীসমূহকে এভাবে ধ্বংস করে দেয়, যেমনি আগুন শুকনো কাঠকে জ্বালিয়ে দেয়। তিনি আরো বলেছেন, মানুষ তিনটি খারাপ কাজে অধিক লিপ্ত থাকে। কাজ তিনটি এই— (১) (মানুষের প্রতি) কুধারণা পোষণ করা। (২) (মানুষের প্রতি) হিংসা-বিদ্বেষ করা। (৩) কোন কাজের পূর্বাহ্নেই অযথা তার অশুভ ফলের ধারণা করে নেয়। কেউ জিজ্ঞেস করল, এই তিনটি দোষ থেকে বেঁচে থাকা যায় কিভাবে? রসূলে পাক (স.) বললেন— (১) কারো কাছে নিজ হিংসা প্রকাশ করো না এবং যার প্রতি হিংসা করা হয় তার দোষ বর্ণনা করো না। (২) কোন মুসলমানের প্রতি কুধারণার সৃষ্টি হলে নিজ চোখে না দেখে তা সত্য বলে বিশ্বাস করো না। (৩) পথ চলাকালে পথে
তথাকথিত অশুভ কোন কিছু দৃষ্টিগোচর হলে সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে গন্তব্য পথে চলতে থাক। ফকীহ আবু লাইছ (রহ.) বলেছেন, হিংসা যাবতীয় অসত্ কাজ থেকে অধিক ধ্বংসাত্মক। কেননা যার প্রতি হিংসা করা হয় হিংসার প্রভাব তার ওপর পতিত হওয়ার পূর্বেই হিংসুটে নিজে পাঁচ প্রচার শাস্তিতে লিপ্ত হয়। (১) সর্বদা চিন্তাযুক্ত থাকা। (২) এমন বিপদলিপ্ত হওয়া যার বিনিময়ে কোন শুভ ফল নেই। (৩) সবদিক থেকে শুধু দুর্নাম ও কুত্সা লাভ। কোথাও কোন প্রশংসা লাভ হয় না। (৪) আল্লাহর অসন্তুষ্টি লাভ। (৫) হিংসুটের জন্য আল্লাহর তাওফীকের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। রসূলে পাক (স.) বলেছেন, ছয় প্রকার মানুষকে ছয়টি কাজ হিসাব-নিকাশের পূর্বেই দোযখে প্রবিষ্ট করে। যথা—(১) আমীর-উমারা ও বাদশাহগণকে দোযখে প্রবিষ্ট করায় অত্যাচার ও সীমা সঙ্ঘন। (২) আরবদেরকে দোযখে ঢুকায় তাদের বংশগত অহংকার। (৩) গোত্রপ্রধান ও ক্ষমতাশালী লোকদেরকে দোযখে প্রবিষ্ট করায় তাদের অহমিকা-ঔদ্ধত্য। (৪) ব্যবসায়ীদেরকে দোযখে প্রবিষ্ট করায় তাদের খেয়ানাত ও ব্যবসায়ে অসততা। (৫) গ্রাম্য অজ্ঞ লোকদেরকে জাহান্নামে নেয় তাদের অজ্ঞতা ও মূর্খতা। (৬) জ্ঞানীদেরকে দোযখে প্রবিষ্ট করায় তাদের হিংসা ও বিদ্বেষ। আহনাফ বিন কায়েস (রহ.) বলেন, (১) হিংসুটে কখনো স্বস্তি ও শান্তি লাভ করতে পারে না। (২) কৃপণ কখনো রহম-দিল হয় না। (৩) ক্ষুদ্রমনা ব্যক্তির কোন বন্ধু হয় না। (৪) মিথ্যাবাদীদের মাঝে মানবতা থাকে না। (৫) পরদ্রব্য লোভী নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি নয়। (৬) চরিত্রহীন লোকদের মাঝে ভালবাসা থাকে না। মুহাম্মদ বিন শীরীন (রহ.) বলেন, আমি জীবনে কাউকে কখনো হিংসা করিনি।