‘অনেক হয়েছে, আর না’
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২২:০৮
দুই-দুইটি যুদ্ধের বীভত্সতার সাক্ষী, এখন দেখছে তৃতীয়টি। বদ্ধ ঘরে যেকোনো সময় হানা দিতে পারে মৃত্যু সেটা যেমন জানে গাজার মানুষ তেমনি জানে নিজের অসহায়ত্বও। কেননা গাজার ইঞ্চি পরিমাণ ভূমিও এখন নিরাপদ নয়। ইসরাইলি গোলাবর্ষণে গাজার রাতের আকাশও এখন দিনের মতো পরিষ্কার, ঘরের ভিতরে থাকলেও প্রতি মুহূর্তে গাজাবাসীর মরণভয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ডাচ কিশোরী অ্যান ফ্রাঙ্কের ডায়েরির খবর প্রায় সবারই জানা। সেই রকমই গাজার ভয়াবহ চিত্র লিখছে ১৬ বছরের ফিলিস্তিনি কিশোরী ফারাহ বাকের। পার্থক্য এই যে তথ্য প্রযুক্তির আধুনিকায়নের এই যুগে তার সঙ্গী টুইটার। টুইটারে উঠে এসেছে ইসরাইলের অবিরত গোলাবর্ষণে গাজায় মানবতার মৃত্যুর কথা। ফুটে উঠেছে তার বেঁচে থাকার আর্তি, ‘তিনটি যুদ্ধ থেকে বেঁচে আছি, অনেক হয়েছে, আর না’।
ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে ইসরাইলের বিমান হামলার চতুর্থ সপ্তাহ চলছে। এ কয়দিনে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দেড় হাজারের কাছাকাছি, যাদের প্রায় সবাই সাধারণ মানুষ। গত সোমবারও গাজার আল শিফা হাসপাতালের সামনে ইসরাইলি গোলার আঘাতে মারা পড়ে ১০ জন। ওই হাসপাতালটির ঠিক উল্টো দিকেই ফারাহর বাসা। তার বাবা একজন চিকিত্সক। ঘরে থেকেই গোলা হামলার এই ঘটনা দেখেছে ফারাহ। তাদের বাড়ির শোবার ঘরের জানালার কাঁচও ভেঙে চৌচির হয়ে গেছে, যার ছবি নিজের টুইটারে তুলে দিয়েছে এই কিশোরী। সেই সঙ্গে লিখেছে, ‘এটা আমার এলাকা, আমি কান্না থামাতে পারছি না। আমাদের পুরো এলাকাতেই গোলাবর্ষণ চলছে। আমি সবাইকে জানাতে চাই, যে কোনো মুহূর্তে শহীদ হতে পারি আমি নিজেও।’
ছয় বছর বয়সি একটি বোন আছে ফারাহর। প্রতিবার গোলার শব্দে শিশুটির শিউরে ওঠার কথাও উঠে এসেছে তার টুইটে— ‘রকেট নিক্ষেপ দেখলেই কানে আঙুল দেয় আমার ছয় বছর বয়সী বোন, আর চিত্কার করে কাঁদতে থাকে, যাতে শব্দ শুনতে না হয় তাকে।’ ফারাহ বলেছে, জানালার কাঁচ ভেঙে পড়েছিল তার ছোট বোনের ওপর। এতে দমবন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল ওর।
গত তিন সপ্তাহ ধরেই ঘরে আটকা ফারাহ। ঘরের মধ্যে থেকেই যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখছে ফারাহ। নয় বছর বয়সী একটি শিশুর মাথা থেকে বের করে আনা ইসরায়েলি গোলার স্পিলিন্টারের ছবিও টুইটারে তুলে দিয়েছে ফারাহ, তার চিকিত্সক বাবার কাছে এটি দেখেছে ও। গত ২৫ জুলাই ২৪ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে মুক্ত বাতাসে বের হওয়ার সুযোগ ঘটে ফারাহর। তখন দেখতে হয় ৫ লাখ মানুষের বাস ১৭ বর্গমাইলের গাজা শহরে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা। নিজের শহরের অবিশ্বাস্য ধ্বংসলীলা দেখে বিশ্ববাসীর কাছে আকুতি করেছে ফারাহ, যেন বন্ধ হয় এই যুদ্ধ। ফিলিস্তিনি কিশোরীটি লিখেছে, ‘আমি বিশ্ববাসীকে জানাতে চাই, শিশুদের ওপর এই বোমা হামলা কোনো বিচারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি বিশ্ববাসীকে জানাতে চাই, গাজায় মানবতার মৃত্যু ঘটছে।’