বাড়ির উঠানের নার্সারির আকার এখন দুই একর
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২২:১৫
সফল নার্সারি ব্যবসায়ী মঞ্জু মিয়া। এক যুগ আগে বাড়ির উঠানে শুরু করা তার ‘মায়ের দোয়া’ নামক নার্সারি বর্তমানে বাড়িসংলগ্ন প্রায় দু্ই একর জমিতে সম্প্রসারিত হয়েছে। তার নার্সারিতে প্রায় ৫০ হাজার দেশি-বিদেশি ফলের চারাসহ বিভিন্ন গাছের চারা শোভা পাচ্ছে। উলিপুর পৌরসভার গৌরিবল্লভ গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র জয়নাল আবেদীন ওরফে মঞ্জু মিয়া। ১২ বছর আগে হঠাত্ বাবা মারা গেলে সংসারের পুরো দায়িত্ব পড়ে তার উপর। অন্যের নার্সারিতে দিনমজুরি করে কোন রকমে সংসার চালাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সাত সদস্যের পরিবারের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন মঞ্জু মিয়া। সংসারের অভাব মেটাতে বাড়ির উঠানে নার্সারি করার প্রবল ইচ্ছে জাগে তার। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থ। এ অবস্থায় মঞ্জুর মা ছবিরা বেগম নিজ নামের ৫ কাঠা জমি বন্ধক রেখে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন ছেলের হাতে। সেই টাকায় মঞ্জু মিয়া ২০০১ সালে বাড়ির উঠানে মায়ের দেয়া টাকা দিয়ে শুরু চারা উত্পাদনের কাজ। নাম দেন ‘মায়ের দোয়া নার্সারি’।উত্পাদিত চারা নিজেই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করতে থাকেন। এক বছরেই জমির বন্ধক ছাড়িয়ে নেন তিনি। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। অল্প দিনের মধ্যে মঞ্জু বাড়ি সংলগ্ন আরো ২ একর জমি খরিদ করে নার্সারি ব্যবসা সম্প্রসারিত করেন। আরো প্রায় ১ একর ফসলি জমি ক্রয় করে চাষাবাদও করেন।
তার সাজানো গোছানো নার্সারির মনোরম দৃশ্য দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আম, লিচু, কাঁঠাল, সফেদা, জামরুল, মৌয়াফল, রাজফল, পেয়ারা, বাতাবি লেবু, জাম্বুরা, আমড়া, তাইওয়ান বড়ই, জলপাই, মালয়েশিয়ান কামরাঙ্গা, আমলকি, বয়রা, হরিতকি, আঙ্গুরসহ নানা জাতের ফলের চারা তার নার্সারিতে শোভা পাচ্ছে।
মঞ্জু জানান, প্রতিবছর তিনি লক্ষাধিক চারা গাছ বিক্রি করে থাকেন। এখন আর আগের মতো তাকে হাট-বাজারে চারা গাছ নিয়ে বিক্রি করতে হয় না। বাড়ি থেকেই পাইকাররা তার কাছ থেকে চারা নিয়ে যান। তার নার্সারিতে নারীসহ ২০/২৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। মঞ্জুর বড় ছেলে আনিছুল হক এম এম মতিন কারিগরি ও কৃষি কলেজের ডিপ্লোমা শেষ বর্ষের ছাত্র। দ্বিতীয় ছেলে এনামুল হক ৭ম শ্রেণীতে ও ছোট ছেলে একরামুল হক ৩য় শ্রেণীতে পড়ছে। ভবিষ্যতে নিজের নার্সারি ব্যবসা আরো বড় করতে চান মঞ্জু মিয়া। এ জন্য কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহযোগিতা কামনা করছেন তিনি।