চলে গেলেন গ্রন্দোনা

বলা হয়ে থাকে ফিফার ইতিহাসে অন্যতম স্পষ্টভাষী ছিলেন তিনি। তা না বলে উপায়ই বা কি! ১৯৭৯ সালে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পরই ইংলিশদের বলে বসেছিলেন ‘মিথ্যুক ও দস্যু’। সেই আর্জেন্টাইন হুলিও গ্রন্দোনার জীবনের সেটা ছিল সূচনা অধ্যায়। এরপর আরও অনেক আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন তিনি নানা সময়ে। কিন্তু এসব কিছুই এখন অতীত। সকল বিতর্ক, সকল পার্থিব আলোচনার ঊর্ধ্বে উঠে গেলেন ফিফার দ্বিতীয় ক্ষমতাধর এই ব্যক্তি। গত বুধবার রাতে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সের একটি হাসপাতালে ৮২ বছর বয়সে মারা যান ফিফার এই সিনিয়র ভাইস-পে সিডেন্ট। এদিনই সকালে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচার করেও তাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তার মৃত্যুতে বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের পর আরেকটি বড় ধাক্কা খেল আর্জেন্টিনার ফুটবল। ১৯৭৯ সালে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) প্রেসিডেন্ট হন গ্রন্দোনা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বেশ সফলভাবেই দায়িত্ব পালন করে গেছেন তিনি। সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে তার সভাপতি থাকাকালীন সময়েই বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা। সভাপতি হওয়ার আগে দেশের ঘরোয়া ফুটবল নিয়েও কাজ করেছেন তিনি। ১৯৮৮ সাল থেকেই তিনি ফিফার নির্বাহী কমিটির সদস্য। ফিফায় সভাপতি সেপ ব্লাটারের পরই ছিল তার স্থান। বন্ধু গ্রন্দোনার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ফিফার সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘খুবই ভালো একজন বন্ধুর মৃত্যুতে আমি শোকাহত। ৮২ বছর বয়সে হুলিও গ্রন্দোনা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমি তার পরিবারকে সান্ত্বনা জানাচ্ছি।’ আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও বার্সেলোনার তারকা লিওনেল মেসিও শোক প্রকাশ করেছেন গ্রন্দোনার মৃত্যুতে। তিনি লিখেছেন, ‘আমার জন্য, পুরো আর্জেন্টিনার জন্য এটা শোকের দিন। আমি তার বন্ধু ও আত্মীয়দের জন্য শোক প্রকাশ করছি।’ আর্জেন্টিনায় শনিবার ও রবিবারের সব ঘরোয়া ফুটবল ম্যাচ স্থগিত রাখা হয়েছে। ২০১৫ সালে এএফএ’র দায়িত্ব ছাড়ার কথা এ বছরের শুরুতে জানিয়েছিলেন গ্রন্দোনা। কিন্তু তার জীবনের চিত্রনাট্য যে অন্যভাবেই ভেবে রেখেছিলেন অন্য একজন। বিদায় জানানোর তাই সুযোগ মিললো না গ্রন্দোনার। তার মৃত্যুর পর আর্জেন্টিনার ফুটবলের নিয়ামক সংস্থাটির দায়িত্ব নিচ্ছেন সহ-সভাপতি লুইস সেগুরা। নতুন করেই শুরু করতে হচ্ছে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে!