ইংল্যান্ডের দাপুটে প্রত্যাবর্তন
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২২:২২
গাজায় যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চলছে, তা আরও অনেকের মতো স্পর্শ করেছে তাকে। রোজ বোলে প্রথম দিন হাতে দুটো ব্রেসলেট পরে খেলতে নেমেছিলেন। তাতে লেখা ছিল—সেভ গাজা ও ফ্রি প্যালেস্তাইন। এই ব্যাপারটা পছন্দ হয়নি আইসিসির। তাকে ডেকে এই ব্রেসলেট পরতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছিল।
তখনই কী মনে মনে কিছু ঠিক করে রেখেছিলেন মইন আলী?
মইন আলী মনে মনে যাই ভেবে রাখুন না কেন, টেস্ট’র শেষ দিনে এসে আবার তিনি শিরোনামে। এবার নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে সবার মুখটা বন্ধ করে দিলেন। ব্যাট হাতে নয়, পার্ট টাইম অফ স্পিনার মইন আলী বল হাতে নিজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করলেন, শেষ করে দিলেন ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ। সেই সঙ্গে ইংল্যান্ডকে ঠিক এক বছর ও দশ টেস্ট পর অবশেষে এনে দিলেন একটি টেস্ট জয়। অ্যালিস্টার কুক, ইয়ান বেলের ফর্মে ফেরা এবং জেমস অ্যান্ডারসনের মারাত্মক বোলিংয়ের পরও এটি হয়ে রইলো মইনের টেস্ট।
পতৌদি ট্রফির তৃতীয় টেস্টে মইন আলীর ৬৭ রানে ৬ উইকেটের পারফরম্যান্সে ভর করে শেষ দিনে অনায়াস এক জয় পেলো ইংল্যান্ড। ২৬৬ রানের এই জয়ের ফলে ৫ টেস্টের সিরিজে ৩ টেস্ট শেষে ১-১ সমতা এখন।
গতকাল শেষ দিনে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৬টি উইকেট। ভারত এই ৬ উইকেট নিয়ে শেষ দিন কাটিয়ে দেয়ার মতো ন্যূনতম প্রতিরোধও গড়ে তুলতে পারেনি। পাল্টা মইন আলী ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ইনিংসে ৫ বা ততোধিক উইকেট নিয়ে ভারতকে শেষ করে দেন ১৭৮ রানে।
রোজ বোলের এই টেস্টে ভারত কখনোই খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি। আগের টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পাওয়া ভারতের বিপক্ষে আসলে প্রথম ইনিংসেই ম্যাচ দখলে নিয়ে নিয়েছিল ইংলিশরা। অজস্র সমালোচনা সঙ্গে নিয়ে নামা অধিনায়ক কুক ৯৫ রানের ইনিংস খেলে নিজের ও দলের স্বস্তি বয়ে আসলেন। আর মাঝের দিকে এসে ব্যালান্সের সঙ্গে অসাধারণ এক জুটি করলেন আরেক অভিজ্ঞ ও আউট অব ফর্ম ইয়ান বেল; ব্যালান্স ১৫৬ ও বেল ১৬৭ রানের দুই ইনিংস খেললেন। সেই সঙ্গে শেষ দিকে বাটলারের ৮৫ রানের ইনিংসের ফলে মাত্র ৭ উইকেট হারিয়ে ৫৬৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে দিয়েছিল ইংল্যান্ড।
জবাবে ভারত অলআউট হয়ে যায় ২৩৯ রান পেছনে থেকে; ৩৩০ রানে। আজিঙ্কা রাহানের ফিফটি ছাড়া আর কিছুই ছিল না তাদের বলার মতো। অ্যান্ডারসন ৫৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে আসল কাজটা করে দেন। প্রথম ইনিংসে এই বিশাল লিডই আসলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। যদিও কুক ভারতকে ফলোঅন না করিয়ে আবার ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন।
সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল না। নিজে আবারও অপরাজিত ৭০ রানের একটা ইনিংস খেলে দ্রুত ৪ উইকেটে ২০৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে দেন। ফলে ভারতের সামনে জয়ের জন্য শেষ ইনিংসে ৪৪৫ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। অসম্ভব এই লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আগের দিনই ১১২ রান তুলতে ৪ উইকেট খুইয়েছিল তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৬৩.৪ ওভারে ৫৬৯/৭ ডিক্লে. (কুক ৯৫, রবসন ২৬, ব্যালান্স ১৫৬, বেল ১৬৭, রুট ৩, মইন ১২, বাটলার ৮৫, ওয়াকস ৭*; বিনয় ৩/১০১, জাদেজা ২/১৫৩, রোহিত ১/২৬, শামি ১/১২৩)।
এবং ২য় ইনিংস: ৪০.৪ ওভারে ২০৫/৪ ডিক্লে. (রবসন ১৩, কুক ৭০*, ব্যালান্স ৩৮, বেল ২৩, রুট ৫৬; জাদেজা ৩/৫২, বিনয় ১/৫৯)।
ভারত ১ম ইনিংস: ১০৬.১ ওভারে ৩৩০/১০ (বিজয় ৩৫, ধাওয়ান ৬, পুজারা ২৪, কোহলি ৩৯, রাহানে ৫৪, রোহিত ২৮, ধোনি ৫০, জাদেজা ৩১, বিনয় ১৯, শামি ৫, পঙ্কজ ১*; অ্যান্ডারসন ৫/৫৩, ব্রড ৩/৬৬, মইন ২/৬২)।
এবং ২য় ইনিংস: ৬৬.৪ ওভারে ১৭৮/১০ (বিজয় ১২, ধাওয়ান ৩৭, পুজারা ২, কোহলি ২৮, রাহানে ৫২*, রোহিত ৬, ধোনি ৬, জাদেজা ১৫, বিনয় ০, শামি ০, পঙ্কজ ৯; মইন ৬/৬৭, অ্যান্ডারসন ২/২৭, রুট ১/৫)।
ফল: ইংল্যান্ড ২৬৬ রানে জয়ী
সিরিজ: ৫ টেস্টের সিরিজে ১-১ সমতা
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: জেমস অ্যান্ডারসন