রুপাতেই সন্তুষ্ট শুটার বাকি!
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২২:২৩
বাংলাদেশের শুটাররা কমনওয়েলথ গেমস থেকে আগের দলগত ও ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জিতলেও এখন পরিবর্তিত সময়েও রৌপ্যপদকে সন্তুষ্ট থাকছেন। এবারের কমনওয়েলথ গেমসে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের একমাত্র পদক জয়ী শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকির প্রতিক্রিয়া অন্তত সেরকমই। এ ব্যাপারে অবশ্য তার নিজস্ব যুক্তি আছে। তবে তিনি একই সাথে এও মনে করেন যে আরো সাফল্যের জন্য শুটিং ক্যাম্প সার্বক্ষণিক চালু থাকা দরকার।
শুটার আব্দুল্লা হেল বাকি গত শুক্রবার ১০ মিটার এয়ার রাইফেলসে ভারতের অভিনব বিন্দ্রার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রৌপ্য জয় করেন। এরপর ঈদের ছুটির মধ্যে দেশে ফেরার পর গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, ‘গেমসে অংশ নেয়ার আগে আমার যে প্রত্যাশা ছিলো, আমি সেটা সফলভাবে করতে পেরেছি। আমি আমার পারফরম্যান্সে খুবই খুশি।’
ঢাকা রাইফেল ক্লাবের সদস্য বাকি এ প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘২০১০ সালে ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে আমি এবং আসিফ ভাই ১০ মিটার এয়ার রাইফেলসে দলগতভাবে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছিলাম। বাংলাদেশের শুটিংয়ের ইতিহাসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলসে একমাত্র আসিফ ভাই ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছেন। এবার আমি ব্যক্তিগত ইভেন্টে রৌপ্য পেয়েছি। এর আগে যারাই শুটিংয়ে অবদান রেখেছেন তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে দলগতভাবে সেটা করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে ফাইট করে ভালো কিছু করাটা অনেক কষ্টের ব্যাপার। এবার আমি যে রৌপ্যপদক পেলাম এটাই আমার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ পদক। এর আগে আমি এশিয়ান গেমসেও অংশ নিয়েছি। তবে গ্রুপ পর্ব টপকিয়ে ফাইনালে যেতে পারিনি।’
নিজের শুটিংয়ে জড়ানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঢাকার গাজীপুরে আমার জন্ম, ওখানেই আমার বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) আমি চতুর্থ শ্রেণী থেকে লেখা পড়া শুরু করি। ২০০০ সালে বিকেএসপিতে প্রথম শুটিং নিয়ে কাজ শুরু হয়। তখন আমাকে শুটিংয়ের জন্য সিলেক্ট করা হয়। ২০১২ সালে আমি ঢাকা রাইফেলস ক্লাবে চলে আসি। শুটিংয়ে জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ পাওয়ার পেছনে ঢাকা রাইফেলসের অবদান সব চেয়ে বেশি।’
জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকার কারণেও উপকৃত হওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। বাকি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘তাছাড়া সব সময় যেহেতু ক্যাম্পে থাকি, আর ক্যাম্পে থাকার কারণে কোরিয়ান কোচের কাছ থেকে সব সময়ই পরামর্শ পেয়েছি। আগে শরিফ ভাই আমাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিতেন। এখন কোরিয়ান কোচ সেটা দিচ্ছেন। পারিবারের সাপোর্ট পাওয়ার দিক থেকে আমি খুব লাকি। পরিবারের সবাই আমাকে শুটার হওয়ার জন্য উত্সাহ-উদ্দীপনা যুগিয়েছেন। আমার বাবা-মা এমনকি চাচাও শুটার হওয়ার জন্য আগ্রহ যুগিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে উত্সাহ-উদ্দীপনা পেয়ে আমি সব কিছু ছেড়ে শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকি।’
বাংলাদেশের শুটারদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষে জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছে। এই অনুশীলটা আমাদের অনেক কাজে লেগেছে। এইভাবে প্রশিক্ষণ চলতে থাকলে শুটিংয়ে আরো ভালো কিছু করা সম্ভব। আমি বলবো যাতে এই ক্যাম্পটা সব সময় যেন চালু থাকে।’
স্কটল্যান্ডের ডান্ডিতে অবস্থিত ব্যারি বাডন শুটিং কমপ্লেক্সে পাওয়া রৌপ্যটির সুবাদেই ২০তম কমনওয়েলথ গেমসের পদক তালিকায় নাম ওঠে বাংলাদেশের। এর মধ্যদিয়ে দীর্ঘ একযুগ পর আবারো কমনওয়লথ গেমস শুটিং থেকে পদক জিতলো বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০০২ সালের ম্যানচেস্টার কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের শুটার আসিফ হোসেন খান স্বর্ণ জিতেছিলেন। এর আগে ১৯৯০ সালে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে শুটার আতিকুর রহমান ও আব্দুস সাত্তার নিনি বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম স্বর্ণপদক জয় করেছিলেন। তবে সেটা ছিল দলগত ইভেন্টে।
এবারের গেমসে তিনটি ইভেন্টে অংশ নেন বাংলাদেশের আটজন শুটার। বাকি দুটি ইভেন্টের মধ্যে স্কিট শুটিংয়ে প্রথম রাউন্ডেই বাদ পরেন বাংলাদেশি শুটার নুরুদ্দিন সেলিম ও ইকবাল ইসলাম। ১০মিটার এয়ার পিস্তলে ৭৫.৯ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম অবস্থান লাভ করেন আরমিন।