রাজশাহীতে ট্রেনের টিকিট পেতে যাত্রীদের ভোগান্তি

রাজশাহী রেল স্টেশনে বৃহস্পতিবার টিকিটে সিট পেতে দিনভর ভোগান্তির মধ্যে ছিলেন যাত্রীরা। বুধবার রাত থেকেই রেলস্টেশনে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। তবে কষ্ট হলেও যাত্রীরা টিকিটে সিট নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে স্টেশনে অবস্থান করেও অনেকেই টিকিটে সিট পাননি। তাদের অভিযোগ, টিকিট কালোবাজারী হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, স্টেশনে সতর্ক রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। টিকিট কালোবাজারীর কোনো সুযোগ নেই।

টিকিট কালোবাজারীর অভিযোগ তোলা যাত্রীদের একজন নগরীর সাগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা আসগর আলী বলেন, টিকিট বিক্রি শুরুর আগে থেকেই তিনি লাইনে ছিলেন। সামনে বড়জোর ১০০ ব্যক্তিকে টিকিট দীেয়ার পরই কাউন্টার থেকে ঘোষণা দীেয়া হয়েছে টিকিট শেষ। কালোবাজারী না হলে টিকিট এতো দ্রুত শেষ হবে না বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে আসগর আলী না পেলেও টিকিট পেয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সদরের সাঈদ হাসান। বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর তিনি বহু প্রত্যাশিত টিকিটটি পেয়েছেন। তিনি বলেন, আমার বাড়ি রাজশাহী সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে। টিকিট জটিলতার কারণে গতবার ঈদে ঢাকা ফিরতে সমস্যা হয়েছিল। এ কারণে এবার আগেই টিকিট কাটার চেষ্টা করেছি। কষ্ট হলেও প্রত্যাশিত টিকিটটি পাওয়া গেছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েরর ডেপুটি চিফ কর্মাশিয়াল ম্যানেজার ফুয়াদ হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে শান্তিপূর্ণভাবে টিকিটি বিক্রি শুরু হয়। সার্ভারের সমস্যার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে তোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই টিকিট বিক্রি চলছে।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল করিম জানান, বিরতিহীন ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেসসহ ঢাকার উদ্দেশে চারটি ট্রেনের টিকিট পাবেন যাত্রীরা। যাত্রীদের নির্বিঘ্নে টিকিট দিতে ও কালোবাজারি ঠেকাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক রয়েছেন। ফলে টিকিট কালোবাজারীর কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, মোট টিকিটের অর্ধেক ‘রেলসেবা’ নামে অ্যাপস থেকে আর বাকি টিকিট বিক্রি হচ্ছে কাউন্টার থেকে। ফলে কাউন্টারে দ্রুত টিকিট শেষ হয়ে যাচ্ছে।