মেঘালয়ে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত তাহিরপুরের পাঁচ গ্রামের মানুষ

সীমান্তের ওপারে অপরিকল্পিতভাবে পাথর ও কয়লা উত্তোলন এবং পাহাড় কাটার ফলে সামান্য বৃষ্টিতে মেঘালয় পাহাড় ধসে ভরাট হয়ে যাচ্ছে তাহিরপুরের উন্মুক্ত বিল, ফসলি জমি। অনাবাদি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার একর দু’ফসলী আবাদি জমি। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট। এসব কারণে তাহিরপুরের চানপুর, রজনী লাইন, রাজাই, কড়ইগড়া, ছড়ার পাড় এই ৫টি গ্রামে নেমে এসেছে মানবিক বিপর্যয়। ছয় বছরেও সমস্যার কার্যকরী সমাধান হয়নি। ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০০৮ সালের জুলাই মাসের এক রাতে। মেঘালয় পাহাড়ে প্রচণ্ড বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে বড় বড় পাথর কাদা মাটি ও বালির স্তূপে মুহূর্তে ভরাট হয়ে গিয়েছিল তাহিরপুরের বিভিন্ন এলাকা। বালিতে ভরাট হয়ে যায় এলাকার একমাত্র উন্মুক্ত বিল পচাশোল। ভয় আর আতংকে গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে বেশ কয়েকটি আদিবাসী পরিবার। ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কয়েক কেজি করে করে চাল দিয়েছিল সরকার। কিছুদিন পরে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে খাল খননের প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী মনে করে, পাথর ও বালির আগ্রাসন থেকে তাহিরপুরকে বাঁচাতে গভীর খাল খনন করে যাদুকাটা নদীর সাথে মিলিয়ে দিলে সমস্যার সাময়িক সমাধান সম্ভব। বেসরকারি এনজিও সংস্থা বার্ষিক সুনামগঞ্জে কর্মরত পানি গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, অব্যাহত পাহাড় ধসে পাথর, বালি ও সালফার যুক্ত পানির কারণে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল এক সময় ভরাট হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। সুরমা, কুশিয়ারা ও মেঘনা নদীও রক্ষা পাবে না এ ক্ষতির হাত থেকে। এ সমস্যা সমাধানে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান তিনি।