আগামী আন্দোলনে সবাই শরিক হোন :খালেদা জিয়া
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২৩:২০
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামীদিনের আন্দোলনে সবাইকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন,হিংসা-বিদ্বেষ নিয়ে সামনে এগুনো যায় না। একটি দেশকে সর্বদিক দিয়ে উন্নত করতে হলে জাতীয় ঐক্য থাকা দরকার। আমরা এমন এক সময় ঈদ পালন করছি, যখন দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই।
মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দে (বিআইসিসি) পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ মানুষ, দলীয় নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশের মানুষ এখন কষ্টে আছে। তিনি হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে দেশ ও জাতির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যারা দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসি তাদের উচিত হবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। দলমত নয় দেখতে হবে যোগ্যতা ও দক্ষতা। যাতে করে স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া যায়।
খালেদা জিয়া বলেন, সত্যিকারের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন।আগামীতে অতিদ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে হতে হবে। আর এতে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে তারা পরবর্তী সব নির্বাচনের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দেশের মানুষ আজ খেতে পায় না। দরিদ্রতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে দেশের প্রতিটি মানুষ অতিষ্ঠ। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে না।
খালেদা জিয়া অবিলম্বে ফিলিস্তিনিদের উপর হামলা বন্ধের জন্য স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে, দুপুর বারোটার দিকে বিআইসিসিতে পৌঁছান বেগম জিয়া। প্রথমেই বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ সারিবদ্ধভাবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, জার্মানি, কানাডা, ফিলিস্তিন, জাপানসহ প্রায় চল্লিশটি দেশের কূটনীতিকেরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর. এ গণি, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর রায়, আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, শমসের মুবিন চৌধুরী, আবদুল আওয়াল মিন্টু, হাবীব-উন নবী খান সোহেল প্রমুখ।
ঈদের দিন সকালে বেগম জিয়া গুলশানের বাসায় আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে দোয়া ও ফাতেহা পাঠ শেষে তিনি গুলশানের বাসায় ফিরেন।