ইসরাইলি তাণ্ডবে গাজায় ঈদের আনন্দ মাটি
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২৩:২১
ইসরাইলি বিমান ও স্থলবাহিনীর গোলাবর্ষণের তান্ডবে গাজায় ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। মুসলিম বিশ্ব যখন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দে বিভোর তখন গাজায় নির্বিচার নিধনযজ্ঞ চালিয়ে গেছে ইসরাইল। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধুলিস্মাত্ হয়ে গেছে অগণিত সুরম্য বাড়িঘর। নিভে গেছে অনেক নিরপরাধ নারী, পুরুষ ও শিশুর জীবন। সর্বশেষ শুরু করা ইসরাইলি তান্ডবে মারা গেছে ১৩শ’র বেশি মানুষ। এদের প্রায় সবাই বেসামরিক নাগরিক।
কিন্তু তারপরেও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুদ্ধবিরতি হোক আর না হোক, তিনি গাজার সুড়ঙ্গপথগুলো ধ্বংস করেই ছাড়বেন। গাজায় তার বাহিনীর প্রধান বলেছেন, যেসব সুড়ঙ্গ দিয়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা ইসরাইলে ‘অনুপ্রবেশ’ করে, সেগুলো ধ্বংস করতে আরো কিছু দিন সময় লাগবে। গাজায় ক্ষমতাসীন সংগঠন হামাস ইসরাইলকে লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। প্রায় এক মাস ধরে চলা ইসরাইলি সামরিক অভিযান এখন ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনার সম্মুখীন। খবর বিবিসির।
বুধবার জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্কুলে ইসরাইলি বোমা হামলায় ১৫ জন নিহত হবার পর সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় ওঠে। ইসরায়েল বলছে গাজার সুড়ঙ্গপথগুলো ধ্বংস করা হবে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেন, ঘুমন্ত শিশুদের উপর হামলার মতো লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। এই আক্রমণ ভয়ানক নিষ্ঠুর এবং একেবারে অগ্রহণযোগ্য, যার জবাবদিহিতা ও বিচার প্রয়োজন। ঐ স্কুলটিতে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিল। গাজায় জাতিসংঘের কার্যক্রমের পরিচালক বব টার্নার বিবিসিকে বলেন, এই স্কুল যে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটা ইসরাইলিদের জানিয়ে দেবার পরও কয়েকবার সেখানে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে শুজায়া এলাকায় একটি শাক-সবজি এবং ফলমূলের বাজারে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১৭জন নিহত এবং ১৬০জন আহত হয়। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলেছেন শত শত লোক তখন ঐ বাজারে কেনা-কাটা করছিলেন।
এদিকে, ইসরাইল এরই মধ্যে গাজা অভিযানে আরো ১৬,০০০ রিজার্ভ সেনা তলব করেছে। বৃহস্পতিবার তেল আবিব অতিরিক্ত এ সেনা তলবের ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে মোট সেনা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬ হাজারে। গাজায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ২৩ দিনের হামলায় নিহতের সংখ্যা মোট ১ হাজার ৩৭২ জনে দাঁড়িয়েছে।