ছিল না যানজট, হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন যাত্রীরা

প্রতিবারের মত এবারো ঈদে সড়কপথে ঈদ যাত্রা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছিল। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মহাসড়কে চার লেনের কাজ চলায় রাস্তা ছিল বেহাল। রোজার শুরুতে ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-চট্টগ্রামের সড়ক পরিস্থিতি ছিল ভয়ানক খারাপ, এতে আতঙ্ক আরো বেড়ে গিয়েছিল যাত্রীদের মাঝে। ঈদের দেড় সপ্তাহ আগ থেকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের জন্য সড়ক ও জনপথের প্রকৌশলীদের ছুটি বাতিল করে চেষ্টা চালানো হয়। সব মিলিয়ে জোড়াতালির হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তা মেরামত হয়েছে। অপরদিকে অনেকটা আগেভাগেই শুরু হয় ঈদের ছুটি। এ কারণে যে যার মতো করে একটু আগেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। ফলে মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপও ছিল কম। শেষ পর্যন্ত বেহাল দশায় পড়তে হয়নি ঈদ উত্সবে ঘরে ফেরা মানুষের। আর চাঁদাবাজি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত যানজট নিয়ন্ত্রণের প্রশাসনের পূর্ব পরিকল্পনা ছিল। যানজট নিরসনে পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছিল নানামুখী পদক্ষেপ। এবার অন্যান্য বছরের মতো বাড়তি বাস ভাড়া আদায় আর পথে পথে ঈদ বকশিশের নামে চাঁদাবাজির খুব বেশি অভিযোগও মেলেনি। সড়ক পথে যাত্রীরা পেরেছেন নিরাপদ ঈদ যাত্রা। হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন লাখ লাখ মানুষ। পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার ইত্তেফাককে বলেন, সরকারের নির্দেশমত পুলিশ নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মনোভাব নিয়ে এবার রমজান ও ঈদের সময় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছে। এখনো দায়িত্ব পালন অব্যাহত আছে। ঈদ উত্সবে জনগণ যেন নিরাপদে ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারেন সে উদ্দেশ্যে আগাম প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ছিল। পুলিশসহ প্রশাসনের সকলের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থেকেছে। এ ক্ষেত্রে জনগণও সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। ছোটখাট বিচ্ছিন্ন ২/১টি ঘটনা ছাড়া এবার কোন বড় ধরনের ঘটনা ঘটেনি। সুতরাং এটা সরকারের সাফল্যের এক মাইলফলক ছাড়া আর কিছু বলার অবকাশ থাকে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্য যে কোন বছরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। যানজট নিরসনেও দেখা গেছে অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটা ব্যতিক্রম। অন্যান্য বছরের মতো হুড়োহুড়ি করে ট্রেন, বাস কিংবা লঞ্চে ওঠার দৃশ্য এবার খুব একটা দেখা যায়নি। ছোটখাট বিচ্ছিন্ন ২/১টি ঘটনা ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা, খুন, ছিনতাই, মলম পার্টির দৌরাত্ম্য ছিল হাতেগোনা কয়েকটি। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানা পদক্ষেপের কারণে এবার ঈদে মহাসড়কগুলো ছিল সরকারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। মাওয়া ফেরিঘাটে গতকাল সকালে কিছু যানজট দেখা গেলেও বিকেলে ছিল একেবারে ফাঁকা। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে একটি গাড়ি বিকল হওয়ায় মুহূর্তে কিলোমিটারব্যাপী যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই বিকল গাড়িটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। গতকালও দেশের কোনো মহাসড়কে যানজট ছিল না। তাই ঈদ শেষে ঢাকায় কাজে যোগ দিতে আসা যাত্রীরা সহজেই পৌঁছে গেছেন। ঘরমুখো মানুষ, পরিবহন শ্রমিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মহাসড়কে যান চলাচলের এমন চিত্রের খবর পাওয়া যায়। সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনালে ঈদের আগের দিন সোমবার কথা হয় বেশ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে। তারা জানালেন, কাউন্টারে এসেই টিকিট কেটেছেন তারা। সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। তবে মহাসড়কে যানজট না থাকার খবরে সবার মধ্যেই ছিল স্বস্তির ছাপ। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্রীপুর ও মাওনা অংশে সবচেয়ে বেশি যানজট থাকে। তবে এবার মহাসড়কের এসব অংশে কোনো যানজট ছিল না। যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। অপরদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ া থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত যানজটপ্রবণ এলাকা। এ মহাসড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহনগুলো চন্দ া দিয়ে ঢুকে বঙ্গবন্ধু সেতু অতিক্রম করে। অপরদিকে এ মহাসড়কের চন্দ া থেকে এলেঙ্গা অপেক্ষাকৃত সরু রাস্তা হওয়ায় নিয়মিতই যানজট থাকে। কিন্তু এবার চন্দ া মোড় প্রশস্ত করায় এবং সংযোগ সড়কগুলো চার লেন করায় যানজট ছিল না। এদিকে রাজধানী থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ২২টি রুটের যানবাহন চলাচলের মূল গেটওয়ে জয়দেবপুর চৌরাস্তা। গতকাল পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট ছিল না। তবে এ মহাসড়কের কোনো কোনো এলাকায় যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী বাজার থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা হয়ে শ্রীপুরের জৈনা বাজার পর্যন্ত, পুবাইলের মীরেরবাজার থেকে টঙ্গী, আশুলিয়ার চন্দ া, ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে চন্দ া পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের ৩৮টি টিম মোতায়েন রাখা ছিল।