ঈদের জামাতে বোমা হামলার পরিকল্পনা ছিল জেএমবির
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২৩:২২
রাজধানীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়েতে মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) নেতা শামিন মাহফুজ ওরফে সুমন ওরফে ম্যানরিং মরং (ছদ্মনাম) দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার হয়েছে। ডিএমপি যুগ্ম-কমিশনার (গোয়েন্দা) মনিরুল ইসলাম জানান, ঈদের জামাতে বোমা হামলার পরিকল্পনা ছিল নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী জেএমবি’র।
এ ব্যাপারে গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম-কমিশনার (গোয়েন্দা) মনিরুল ইসলাম জানান, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম বুধবার রাতে তাদের সায়েদাবাদ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে বিস্ফোরক ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অপর দু’জন হচ্ছে- জাহিদুর রহমান ও ইসমাইল হোসেন। ঈদের জামাতে বোমা হামলার পরিকল্পনা ছিল নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী জেএমবি’র। কিন্তু পুলিশি তত্পরতার কারণে তারা কোন ধরনের নাশকতা ঘটাতে পারেনি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। শামিন জেএমবি’র একটি গ্রুপের দলনেতা।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি পুলিশ গতকাল তাদের ৬ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। শামিন মাহফুজের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা, জাহিদুর রহমানের বাড়ি পিরোজপুর এবং ইসমাইল হোসেনের বাড়ি চাঁদপুরে। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসী তত্পরতার অভিযোগে পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে পূর্বে তারা জামাতুল মুসলিমীন নামক জঙ্গি সংগঠনের মাধ্যমে উগ্র মতাদর্শ প্রচার এবং প্রসারের কাজে যুক্ত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে উল্লেখিত সংগঠনের সকল কার্যক্রম স্তিমিত হওয়ায় তারা জেএমবি এবং আল-কায়েদার মত সংগঠনগুলোর মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। বিভিন্ন সময় তারা বান্দরবানের থানছি এলাকায় গিয়ে ছদ্মবেশে জঙ্গি সদস্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ এবং সশস্ত্র আক্রমণের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে জেএমবিসহ উগ্রবাদী বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সমন্বয় সাধন করাই তাদের মূল কাজ। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, শামিন মাহফুজের নির্দেশে অপর দু’জন বিভিন্ন সময় বিস্ফোরক, লিফলেট, প্রচারপত্রসহ নানা প্রকার জঙ্গি সরঞ্জামাদি বিভিন্ন জঙ্গির কাছে পৌঁছে দিত। শামিন জঙ্গি নেতা হিসাবে জেএমবি’র কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছিল। পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি বিভিন্ন পলাতক জঙ্গিদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা কাজ করছে বলেও তাদের কাছ থেকে জানা যায়। গ্রেফতারকৃতরা পূর্বে একাধিকবার জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত থাকা এবং বিস্ফোরক দ্রব্যাদি দখলে রাখার জন্য গ্রেফতার হয়েছিল। জামিনে মুক্তি লাভের পর তারা একই পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এমন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কার্যক্রম শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, শেখ নাজমুল আলম, জাহাঙ্গীর আলম মাতব্বর, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ছানোয়ার হোসেন।