পার্কগুলোতে লোকজনের কমতি নেই
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২৩:২৩
ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ গুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। শিশু কিশোরদের ঈদের আনন্দের বিরাট অংশ জুড়ে ছিল বিনোদন কেন্দ । চট্টগ্রাম মহানগরীর মধ্যে সীমিত আনন্দ বিনোদনের স্থানগুলো শিশু কিশোর ও বয়োবৃদ্ধদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। পতেঙ্গার সমুদ্র সৈকত থেকে শুরু করে নগরীর মধ্যে কয়েকটি পার্ক ও বিনোদন স্পটে ছিল জনস্রোত। ঈদের দিন থেকে শুরু করে গতকাল বৃহস্পতিবারও বিনোদন কেন্দ গুলোতে বিনোদন পিয়াসী লোকজনের কমতি ছিল না। আবার অনেকেই ছুটে গেছেন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকেই আবার নগরী ছেড়ে বান্দরবানের নীলগিরি, খাগড়াছড়ির আলুটিলা কিংবা রাঙ্গামাটি লেকে নৌকা ভ্রমণে ছুটে গেছেন।
চট্টগ্রাম মহানগরীর মধ্যে মুক্ত আকাশ ও বিশাল সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্তের বিরল দৃশ্য দেখতে পতেঙ্গা সৈকত এলাকায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে শুধু নগরীর মানুষ নয়, দূর-দূরান্ত থেকে এবং চট্টগ্রামের বাইরে থেকে ঈদ উদযাপন করতে আসা লোকজনের ভিড়ও ছিল প্রচণ্ড। অথচ পতেঙ্গা সৈকত সেই আগের মত নেই। দোকানপাট ও হকারদের দ্বারা আচ্ছাদিত হয়ে গেছে সমুদ্র উপকূলের বিশাল অংশ। তারপরও শহরের মোটামুটি সন্নিকটে সমুদ্র সৈকতের লোনা বাতাসের গন্ধ উপভোগ করার সুযোগ কে বা হারাতে চায়। তাছাড়া এ সৈকতে দাঁড়িয়ে দেখতে পাওয়া যায় সারিবদ্ধ জাহাজ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য বোঝাই জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে পৌঁছার জন্য অপেক্ষা করছে। সন্ধ্যার পর সমুদ্রে জাহাজগুলোর অজস্র বাতি এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা করে। তাই সন্ধ্যার পরও এখানে লোকজনের উপস্থিতি দেখা যায়।
চট্টগ্রাম মহানগরীর বিনোদন স্পটগুলোর মধ্যে কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক অন্যতম। ফয়স লেকস্থ রেলওয়ের জমিতে টিলা, সমতল লেক নিয়ে গড়ে ওঠা এ পার্কের প্রবেশমূল্যসহ রাইডের মূল্য অপেক্ষাকৃত বেশি। এরপরও নগরীর সীমিত বিনোদন কেন্দ গুলোর মধ্যে এতে থাকা রাইডগুলো অপেক্ষাকৃত ভালো। তাই শিশু কিশোরদের এর প্রতি ঝোঁক একটু বেশি লক্ষ্য করা যায়। এর লেকের পাশে গড়ে ওঠা কিছু রেস্ট হাউজে ঈদের ছুটিতে আসা অনেকেই রাত্রিযাপন করে। নগরীর মধ্যে কনকর্ড এমিউজমেন্ট পার্কে ঈদের দিন থেকেই ভিড় লেগে আছে। নগরীর বহদ্দারহাটস্থ মহান স্বাধীনতার ঘোষণাস্থল হিসেবে পরিচিত কালুরঘাট বেতার কেন্দ ঘিরে গড়ে ওঠা স্বাধীনতা পার্কেও সব বয়সের লোকজনের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। এখানে শুধু স্বাধীনতার ঘোষণাস্থলই নয়, দেশের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানসমূহের স্বল্প পরিসরের মনুমেন্ট রয়েছে। যে কোনো ব্যক্তি এখানে এসে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটসমূহ সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে পারবেন।