বাংলা প্রথমপত্র

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা

আবার আসিব ফিরে প্রশ্ন: ১। নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: বহুদিন নানা দেশ ঘুরে শেষ জীবনে গ্রামে ফিরে যেন নিজের আশ্রয় খুঁজে পেলেন হাবিব সাহেব। বাংলার নদী, মাঠ, ঘাস, লতা তাঁকে যেন স্নেহের বাঁধনে বাঁধল। এদেশের নানা জাতের পাখির কলকাকলিতে তিনি সঙ্গীতের মূর্ছনা খুঁজে পেলেন। চৌধুরী সাহেবের মনে হলো, যদি বার বার জন্ম নেওয়া সম্ভব হতো তাহলে এদেশের বুকেই জন্ম নিতেন তিনি। এদেশ ছেড়ে কখনোই কোথাও যাবেন না তিনি। (ক) উঠানে খইয়ের ধান ছড়ায় কে? (খ) ‘কার্তিকের নবান্নের দেশে’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? — বুঝিয়ে লেখ। (গ) উদ্দীপকের হাবিব সাহেবের সঙ্গে ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার কবির ভাবনার মিল কোথায়? ব্যাখ্যা করো। (ঘ) উদ্দীপক ও ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় প্রকাশিত দেশপ্রেমের স্বরূপ বিশ্লেষণ করো। উত্তর:(ক) উঠানে খইয়ের ধান ছড়ায় একটি শিশু। (খ)কার্তিকের ধানকাটা শেষে গ্রামবাংলার কৃষকেরা ঘরে নতুন ধান তোলার উত্সবে মেতে ওঠে বলে এদেশকে কার্তিকের নবান্নের দেশ বলা হয়েছে। কৃষিনির্ভর এদেশে কার্তিকের শুরুতে কৃষকরা নতুন ধান ঘরে তোলার আনন্দে মেতে ওঠে। ধান ঘরে তোলার শেষে নতুন ধানের চাল দিয়ে পিঠা পায়েস ও দুধ, গুড় নারকেলের সঙ্গে মিশিয়ে নতুন আতপ চালের ভাত খাওয়ার উত্সব করে। এ উত্সবের দেশকেই কার্তিকের নবান্নের দেশ বলা হয়েছে। (গ)কবি জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় স্বদেশ ওজন্মভূমির মায়া-মততা ও ভালোবাসা নিখুঁতভাবে প্রকাশ পেয়েছে, যা উদ্দীপকের হাবিব সাহেবের মধ্যেও দৃশ্যমান। দেশের বাইরে বসবাস যার, সে-ই দেশের শূন্যতাকে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করে। উদ্দীপকে হাবিব সাহেবের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হয়নি। জন্মভূমিতে ফিরে এসে তিনি বুক ভরে স্বস্তির নি:শ্বাস নিয়েছেন। বার বার তিনি এ জন্মভূমিতেই জন্ম নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় কবির ভাবনাও হাবিব সাহেবের অনুভূতির অনুরুপ। কবি বিমুগ্ধ চিত্তে প্রিয় স্বদেশভূমির সৌন্দর্যে অভিভূত হয়েছেন। কবি এদেশের নদী, মাঠ-ঘাট, ফসলের খেত ইত্যাদিকে হূদয়ে ঠাঁই দিয়ে উপলব্ধি করেছেন। নদী, মাঠ, ফসলের খেত ইত্যাদিকে ভালোবেসে আবারও শঙ্খচিল ও শালিকের বেশে বার বার এদেশে ফিরে আসার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। কবি কখনও হাঁস হয়ে আবার কখনও সাদা বক হয়ে এদেশে ফিরে আসতে চেয়েছেন। (ঘ) উদ্দীপকের মতোই ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে কবির দেশের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা। জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা কোনো মানুষ বিস্মৃত হয় না। মনের গভীরে লালন করে সে ভালোবাসার অব্যক্ত অনুরাগ। কবি হূদয় দিয়ে উপলদ্ধি করেছেন, এদেশের বিচিত্র সৌন্দর্যকে ভালোবেসে ঠাঁই দিয়েছেন হূদয়ের গভীরে। তাই তিনি এদেশের নদী, মাঠ ঘাট ফসলের খেত ইত্যাদিকে ভালোবেসে শঙ্খচিল ও শালিকের বেসে আবারও এদেশে ফিরে আসতে চান। এদেশের মাটি ও মানুষের গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপকেও। কবি যেমন সন্ধ্যার আকাশে সুদর্শন হয়ে গোধূলির আলো আঁধারিতে, লক্ষ্মীপেঁচা হয়ে শিমুলের ডালে অথবা খইয়ের ধান ছড়ানো শিশুর প্রতীকে এ বাংলায় বার বার ফিরে আসতে চেয়েছেন, তেমনি হাবিব সাহেবও এদেশে বার বার জন্ম নিতে চেয়েছেন। স্বদেশের মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি কবির অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার মাধ্যমে। বার বার ফিরে এসে প্রিয় জন্মভূমি ও তার বিচিত্র সৌন্দর্যে অবগাহন করে আত্মতৃপ্তি খুঁজে বেড়ান তিনি। উদ্দীপকের হাবিব সাহেবের স্বদেশের প্রতি অনুরাগও একই সূত্রে গ্রথিত।