সাবেকদের সমালোচনায় বিদ্ধ ভারত

ইংল্যান্ডের মাটিতে স্বপ্নের মত একটা সময় কাটছিল ভারতীয় ক্রিকেটারদের। কিন্তু সব কিছু এলোমেলো করে দিলো মাত্র একটি ম্যাচ। অ্যালিস্টার কুকের দলের কাছে ২৬৬ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয় তাদের নামিয়ে এনেছে মাটিতে। মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের এই অসহায় আত্মসমর্পণের পর দলকে এক বিন্দু ছাড় দিতে নারাজ সাবেক ক্রিকেটাররা। তাদের উপর চটেছেন সুনীর গাভাস্কার ও কপিল দেবের মত সাবেক অধিনায়করা। ম্যাচ শেষ হবার পরপরই ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির সাথে কথা বলেন কিংবদন্তী ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কার। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘শেষের দিন যখন লাঞ্চের আগেই ব্যাটসম্যানরা আউট হয়ে ফিরে আসেন, তখন প্রমাণিত হয় যে ম্যাচটা ছিল একতরফা। অসহায় ভাবে আত্মসমর্পণ করেছে ভারতীয় ক্রিকেটাররা। বিন্দুমাত্র লড়াই করতে পারেনি খেলোয়াড়রা। এটাই ম্যাচে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় হতাশার দিক।’ চতুর্থ ইনিংসে পাটর্টাইম স্পিনার মঈন আলীর দাপুটে বোলিংয়ের সামনে ভারতীয় ব্যাটিং ভেঙে পড়লেও তৃতীয় টেস্টে ধোনিদের হারের জন্য কপিল দেব দায়ী করছেন ভারতের বোলিংকে। বিশেষ করে মোহাম্মদ শামির দিকেই সমালোচনার তীর ছুঁড়লেন ভারতের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী এই অধিনায়ক। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকাকে ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘প্রথম দুই টেস্টে ভারতের প্রধান অস্ত্রই ছিল বোলিং। রোজ বোলের মতো নটিংহ্যামেও পাটা উইকেট ছিল। কিন্তু ওই দু’টো মাঠে ভারতীয় বোলারদের পারফরম্যান্সের বিস্তর পার্থক্যটা একবার ভাবুন তো!’ লর্ডস টেস্টের সেরা খেলোয়াড় ইশান্ত শর্মার অভাবে এই ম্যাচে শামি আর ভুবনেশ্বর কুমারের উপর স্বভাবতই বাড়তি চাপ পড়লেও কপিলের মতে তাঁরা দু’জনই তৃতীয় টেস্টে হতাশ করেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভুবনেশ্বর কুমার এই টেস্টেও বল মুভ করিয়েছে, কিন্তু ওর গড়পড়তা বলের গতি এতই কম ছিল যে, ব্যাটসম্যানের পক্ষে সেই মুভটা বুঝে খেলতে অসুবিধে হয়নি। ভুবি যদি বলের গতি আরও এক বা দু’গজ বাড়াতে পারত, তা হলে এ ধরনের পিচ থেকে আরও বেশি সাহায্য পেত।’ শামির যোগ্যতা নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলেননি কপিল দেব। কিন্তু, অতিরিক্ত গতিতে বল করতে গিয়েই তিনি দলের জন্য বিপদ ডেকে এনেছেন বলে মনে করছেন সাবেক এই ভারতীয় অধিনায়ক। লাইন ও লেংথের প্রতি আরও মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘শামি সত্যিই ভাল পেসার। কিন্তু ও আবার বড্ড বেশি গতিতে বল করতে চেয়েছে এই টেস্টে। যদিও একজন পেসারের অত বেশি গতিতে বল করার কোনও মানেই নেই, যদি না সে সেই ক্ষেত্রে যে লাইনে বল করা দরকার সেটাই না করতে পারে। শামির ক্ষেত্রে ঠিক সেটাই ঘটেছে। ইংলিশ পিচ আর পরিবেশে পেসারের প্রথম কাজ হলো ভাল লাইন লেংথে বল করা। তার পর ভাই, তুমি বলের বাড়তি গতি নিয়ে ভাবো-টাবো।’ শামিকে কপিলের পরামর্শ, ‘যদি তুমি প্রথমে বলের সঠিক লাইন ও লেংথের কথা ভেবে তার পরে বেশি গতি নিয়ে চিন্তা করো, তা হলেই ভাল থেকে আরও ভাল পেসার হয়ে উঠবে এবং পরের দু’বছর ভারতের হয়ে আরও বেশি ভাল বল করতে পারবে।’ এই হারের ফলে টানা ১১ টি টেস্ট অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখতে পারলো না ভারতীয় ক্রিকেটাররা। ইংল্যান্ডের সাথে সিরিজে এখন ১-১ সমতা। আগামী ৭ আগস্ট থেকে ম্যানচেস্টারে শুরু হচ্ছে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট। সেই টেস্টের আগে ভারতের করণীয় কি? সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি অবশ্য এই হারের পরও ভারতকেই সিরিজে জয়ী হিসেবে দেখতে পাচ্ছেন, ‘আমি এখনও দলের উপরই ভরসা রাখছি। ইংল্যান্ড এখনও তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়নি। ওদের হারানো আমাদের জন্য কঠিন হবে না।’ আর কপিল দেব মনে করছেন সিরিজ জিততে ভারতের সামনে রাস্তাটা অনেক বেশি কঠিন হতে যাচ্ছে। এজন্য অনুশীলনে আরও বেশি মনোযোগী হতে তিনি ক্রিকেটারদের পরামর্শ দিলেন, ‘যখন তুমি প্রথমে খারাপ বোলিং করায় প্রতিপক্ষ তোমার ঘাড়ে প্রায় ছ’শো রান চাপিয়ে দিয়ে তোমাকে সারাক্ষণ চাপে রেখে দিয়েছে, তখন সেই প্রবল চাপে তোমার ব্যাটিংয়ে শৃঙ্খলা এমনিতেই উধাও হয়ে যাবে। কিন্তু ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা এতো সহজে হার মেনে যাবে সেটা কল্পনারও অতীত ছিল। সমস্যা কাটাতে অনুশীলনে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে।’-এএফপি/ওয়েবসাইট