চাটমোহরে মুড়ি ভেজে শতাধিক পরিবারের জীবিকা নির্বাহ

মুড়ি ভেজে পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের খৈরাশ গ্রামে শতাধিক পরিবার জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। এই গ্রামের একশ’ পরিবার সারাবছর মুড়ি ভেজে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে। রমজান মাস বাদে অন্য মাসে চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে মুড়ি বিক্রি করে তারা। এছাড়া অন্য যে কোনো ব্যক্তির মুড়ি ভেজে দেয় তারা। এতে প্রতি কেজি মুড়ি ভেজে ১০ থেকে ১৫ টাকা মজুরি নেয়। মুড়ি ভেজে তাদের দৈনিক ৩ থেকে ৪শ’ টাকা আয় হয়। চলতি রমজান মাসকে কেন্দ্র করে খৈরাশ গ্রামে চলছে মুড়ি ভাজার ধুম। রমজান মাসে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে পাইকার-মহাজনরা এখান থেকে মুড়ি ক্রয় করে নিয়ে যায়। রমজান মাসে মুড়ির ব্যাপক চাহিদা থাকায় দিন-রাত তারা মুড়ি তৈরি করে। ভোরে ঘুম থেকে উঠে এ পেশার সাথে জড়িতরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে মুড়ি ভাজা নিয়ে। সকালে মেয়েরা চুলায় আগুন দেয়। একজন বালু গরম করে, অপরজন পানির সাথে পরিমাণ মত লবণ মিশ্রিত পানি গরম করে। সেই পানির সাথে চাল মাখিয়ে অপর পাতিলে গরম করে। নির্দিষ্ট সময় গরম বালু আর চালের সংমিশ্রণে তৈরি হয় মুড়ি। এভাবেই প্রতিদিন প্রায় ১‘শ থেকে দেড়‘শ মণ চালের মুড়ি ভাজে এই গ্রামের মেয়েরা। মাথায় নিয়ে ঘুরে ঘুরে গ্রামে-গঞ্জে, হাট-বাজারে বিক্রি করে সেই মুড়ি। খৈরাশ গ্রামের মুড়ি বিক্রেতা রফিজ আলী জানান, প্রতি কেজি মুড়ি বিক্রি করেন ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে। একই পরিমাণ মুড়ি তৈরি করতে খরচ পড়ে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি এ ব্যবসা করে আসছেন। তার বাবাও এই পেশায় ছিলেন। খৈরাশ গ্রামের পন্ডিত আশরাফ আলী জানান, আমাদের প্রতিদিন সকালে মুড়ি ভাজার শব্দে ঘুম ভাঙ্গে। এ গ্রামের মুড়ি দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি হয়ে থাকে।