বন পাহাড়ের নিবিড় সান্নিধ্যে
মিলন চক্রবর্তী, বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫২
প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়ায় পেতে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে এখন সৌন্দর্য পিপাসুদের ভিড়। ঈদের ছুটিতে জেলা সদর ও বিভিন্ন উপজেলার হোটেল-মোটেল, রেস্ট হাউস এবং গেস্ট হাউসগুলোতে সিট খালি নেই। এক সিটে ডাবলিং করেও থাকছে বাইরে থেকে আসা ভ্রমণ পিপাসুরা। কোথাও সিট না পেয়ে দুর্গমাঞ্চলে পাহাড়িদের মাচাংঘরগুলোকে থাকার বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে বেছে নিচ্ছেন বেড়াতে আসা লোকজন।
প্রতিদিনই হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু ভিড় জমাচ্ছেন বান্দরবান জেলায়। তবে অনুন্নত সড়ক যোগাযোগ এবং পর্যটন স্পটগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। ঢাকা থেকে বান্দরবানে বেড়াতে আসা সাজ্জাদ হোসেন এবং চট্টগ্রাম থেকে আসা নওশেদ আরমান ও সীমা দম্পতি জানান, নীলাচল’সহ এখানকার পর্যটন স্পটগুলোর সৌন্দর্য দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বড় খারাপ। বৃহস্পতিবার নীলাচল সড়কে দীর্ঘ দু’ঘণ্টা লম্বা যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে। এটি শুধুমাত্র সরু সড়কের কারণেই এই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে ভ্রমণপিপাসুদের। এছাড়াও একই সড়কে দুটি স্থানে দু’দফায় টিকেট-টোল আদায়ের বিষয়টিও যন্ত্রণাদায়ক।
ঈদের লম্বা ছুটিতে বান্দরবানে নীলাচল, মেঘলা, নীলগিরি, স্বর্ণ মন্দির, রিজুক ঝর্ণা, শৈল প্রপাত, চিম্বুক, বগালেক, ক্যাওক্রাডং’সহ জেলার পর্যটন স্পটগুলো এখন সৌন্দর্যপিপাসুদের পদভারে মুখর। কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। পালকি গেস্ট হাউজের ম্যানেজার সিপন দাশ’সহ পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, হোটেল-মোটেল এবং রেস্ট হাউজ-গেস্ট হাউজ কোথাও কোনো সিট খালি নেই। গত মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা বুকিং রয়েছে। রুম না পেয়ে অনেকে রাস্তা এবং গাড়িতেই রাত্রি যাপনে বাধ্য হচ্ছেন। এবিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক কে.এম তারিকুল ইসলাম জানান, পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসার লাভ করছে বান্দরবানে। ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকের বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা গেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।