ট্রেনের ধাক্কায় বরযাত্রীবাহী বাসের ১১ জন নিহত

গতকাল শুক্রবার ভোরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার রেল ক্রসিংয়ে খুলনাগামী আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় বরযাত্রীবাহী বাসের শিশু ও মহিলাসহ ১১ জন নিহত ও কমপক্ষে ৬০ জন আহত হয়েছেন। ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৩৯ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতাল ও ১৬ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে যশোর থেকে ৩ জনকে ঢাকা ও ঝিনাইদহ থেকে ৪ জনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিন সদস্য রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর খুলনার সাথে সারাদেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উদ্ধার কাজ শেষ হলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রায় ৮ ঘণ্টা পর পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়। নিহতরা হচ্ছেন- কালীগঞ্জের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের একই পরিবারের তৃষ্ণা রানী (২০) কৌশিক অধিকারি (৮) ও বন্যা রানী (৩৫) এবং শৈলকুপার ফুলহরি কাজীপাড়ার সুধন কুমার (২২), শোভন কুমার (২১), বিপ্লব কুমার (২৫), সুধির কুমার (৪৫), সঞ্জয় কুমার (৩২), সুজয় কুমার (২৩) ও উজ্জল (২৮)। একজনের নাম জানা যায়নি। বিয়ে বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। বৌভাত যে স্থানে করার কথা ছিল সেখানে এখন লাশ সত্কারের আয়োজন চলছে। কালীগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার সাঁকো বাজারের সুভাষ বিশ্বাসের মেয়ের সাথে ফুলহরি কাজীপাড়া গ্রামের সাধন বিশ্বাসের ছেলে তাপস কুমার বিশ্বাসের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। বিয়ে শেষে বর-কনে একটি মাইক্রোবাসে ও বরযাত্রীরা পিছনে বাসে বাড়ি ফিরছিল। মাইক্রোবাসটি রেল লাইন ক্রস করে যায়। বরযাত্রীবাহী বাসটি রেল লাইন ক্রস করতে গেলে সৈয়দপুর থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন ধাক্কা মারে। ট্রেনের ইঞ্জিনের নিচে পড়ে বাসটি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। ট্রেনটি বাসটিকে ছেঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান ৯ জন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দে উজ্জল দাস চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। ফরিদপুর নেয়ার পথে মারা যান একজন। প্রাণে বেঁচে যাওয়া বাসের একজন আহত যাত্রী সনত্ কুমার বলেন, বাসে ৭০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় আশপাশে লোক ছিল না। তুলনামূলকভাবে কম আহত যাত্রীরা হতাহতদের উদ্ধারে তত্পরতা শুরু করে। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেড হতাহতদের উদ্ধার করে। আহতদের যশোর, ঝিনাইদহ ও কালীগঞ্জ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বারোবাজারের বাসিন্দা আজাদ হোসেন অভিযোগ করেন, রেল ক্রসিংয়ে ২ জন গেটম্যান মমিন ও হুমায়নের ডিউটি ছিল। কিন্তু শুক্রবার দুর্ঘটনার সময় তারা সেখানে ডিউটিরত ছিলেন না। ফলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর খুলনার সাথে সারাদেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উদ্ধার কাজ শেষ হলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রায় ৮ ঘণ্টা পর পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়। খবর পেয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামানসহ পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারও উদ্ধার কাজ তদারক করেন। জেলা প্রশাসক জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিককে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। রেলওয়ের পশ্চিম জোনের জিএম আব্দুল আওয়াল ভুঁইয়া বলেন, রেলের পক্ষ থেকে ৪ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। রেলের কোন কর্মচারীর গাফিলতি প্রমাণ হলে শাস্তি দেয়া হবে। ইতিমধ্যে বারোবাজার স্টেশন ম্যানেজার আবু সানিয়াব ও গেটম্যান আব্দুর রহমানকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।