ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি
ঈশ্বরদীতে সংঘর্ষে ২ জন নিহত
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০১৪, ২৩:০২
ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহের সময় কালোবাজারিদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে জুম্মত আলী (৩০) ও জীবন (১৯) নামের দুইজন নিহত হয়েছে। এঘটনায় আহত হয়েছে আরো ২০ জন। গতকাল শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে ঘটনার সূত্রপাত হলেও সকাল ৯টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা যায়, নিহত জুম্মত স্টেশন সংলগ্ন ডহশৈলা গ্রামের মৃত আকবর আলী শেখের ছেলে এবং জীবন ঈশ্বরদী পৌর এলাকার শৈলপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। সংঘর্ষের সময় ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনের প্লাটফরম, টিকিট কাউন্টার, বিশ্রামাগারসহ আশপাশের দোকানপাট হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। এ সময় স্টেশনসহ পার্শ্ববর্তী পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এদিকে দুপুরে রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব আবুল কালাম আজাদ আকস্মিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন চালু হওয়ার পর থেকে স্টেশন মাস্টারের সাথে যোগসাজশ করে পার্শ্ববর্তী এলাকার ফারুক, হামিদুল, হাফিজুল, মস্তব, জুম্মত ও তাদের লোকেরা ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির মাধ্যমে বেশি দামে বিক্রি করে আসছিল। যাত্রীদের অভিযোগ, অধিকাংশ সময় এই স্টেশনের কাউন্টারে টিকিট কিনতে গেলে টিকিট পাওয়া যায় না। যাত্রীরা অতিরিক্ত মূল্য দিলেই ঐ চক্রের কাছ থেকে টিকিট কিনত। বিষয়টি রেল প্রশাসন, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীদের জানানোর পরও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
ঈদকে কেন্দ্র করে টিকিট চোরাকারবারিরা ব্যাপক সক্রিয় ছিল। স্টেশনের সংশ্লিষ্টদের সাথে গোপন আঁতাত করে অধিকাংশ টিকিট তারা আগেই কিনে নেয়। গতকাল শুক্রবার গভীর রাত হতেই ঢাকাগামী সিল্ক সিটি ট্রেনের ৫ আগস্টের অগ্রিম টিকিট কেনার জন্য সাধারণ যাত্রীরা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও কালোবাজারিদের সাথে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি এবং পরে কালোবাজারি স্বপন ও জীবনের মধ্যে মারামারি বেধে যায়। সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীরা কালোবাজারি জীবনকে আটক করে স্টেশনের বিশ্রামাগারে আটকে রাখে। খবর পেয়ে জীবনের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে স্বপনের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে ব্যাপক মারপিট করে। সে সময় স্টেশন সংলগ্ন লালপুর থানার ডহশৈলা গ্রামের জুম্মত আলী (৩০) গুরুতর আহত হয়। তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। জুম্মতের মারা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার লোকজন সংঘঠিত হয়ে বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে বাইপাস স্টেশনে হামলা চালিয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের সামনেই বিশ্রামাগারের তালা ভেঙ্গে জীবনকে টেনে-হেঁচড়ে বাইরে নিয়ে এসে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করে। এ সময় তারা বাইপাস স্টেশনের প্লাটফর্মে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। উভয় গ্রুপের লোকজনের মুখোমুখি সংঘর্ষ বেধে যাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়। কয়েকজন যাত্রীও আহত হন। আহতদের মধ্যে রানা নামের একজনকে মুমূর্ষূ অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ন কবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, টিকিট কালোবাজারিদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রেল থানায় দুইটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।