গল্প নয় সত্যি
প্রিয়তমার জন্য ১০,০০০ মাইল!
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৪, ১৯:৫৬
আবেগ আর অনুভূতির আতিশয্যে প্রিয় মানুষটির কাছে কত কিছুই না চেয়ে বসি আমরা। কখনো যেমন দিন-রাতের ব্যবধান ডিঙিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রিয়তমার সামনে বসে থাকতে চান কেউ, তেমনি দেখা হওয়া সম্ভব না জেনেও হয়তো যোজন যোজন দূরের প্রিয়তমকে এক মুহূর্তের মাঝে কাছে পেতে চাই। তবে কথায় বলে সত্যিকারের ভালোবাসার অনভূতি মাঝে মাঝে না কি মানুষের মনে অসম্ভবকেও সম্ভব করার শক্তি এনে দেয়। যেমনটা দিয়েছিল লন্ডনের তরুণ জ্যাক হ্যারিসকে। হাজার দশেক মাইলের চেয়েও বেশি দূরে থাকা প্রিয়তমা এলার ছোট্ট একটা আবদার কিংবা ঠাট্টাকে প্রশ্রয় দিতে যেয়ে রীতিমতো ২৮ ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে তিনি চমকে দিয়েছেন এলাকে। প্রিয় মানুষটির সাথে হুট করে দেখা হওয়া সম্ভব নয় জেনেও নিজের জন্মদিনের মাত্র তিনদিন আগে এলা স্কাইপে জ্যাককে জানিয়েছিলেন যে, খুব মজা হতো যদি জ্যাক যেকোনো একটি ফ্লাইট ধরে তার সামনে চলে যেতেন এবং তাকে চমকে দেওয়ার জন্য যদি ফ্লাইটের তারিখটা না জানাতেন। তবে এলার এই কথাটা ছিল নেহাতই কথাচ্ছলে বলা একটি কথা। যদিও তার এই কথাটাই ভীষণ মনে ধরেছিল জ্যাকের। আর তাই প্রিয় মানুষটির অসম্ভব আবদারে সাড়া দিয়ে প্রায় সাথে সাথেই ব্যাগ গুছিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন জ্যাক। সেই সাথে শুরু করেন তার যাত্রাপথের ভিডিও নিয়ে এলার জন্য ছোট্ট একটি চলচ্চিত্র তৈরির কাজও। বিমানবন্দরে যাওয়ার পর তাত্ক্ষণিকভাবে হংকং হয়ে মোট ২০ ঘণ্টার ভ্রমণ আর ৮ ঘণ্টা বিরতির একটি ফ্লাইটই কপালে জোটে জ্যাকের। তবে পিছপা হবার জন্য তো আর ঘর ছাড়েননি জ্যাক। তাই বিন্দুমাত্র না ভেবে সেই ফ্লাইটেই রওনা হয়ে যান তিনি। এদিকে ঠিক এলার জন্মদিনের আগের সকালে সিডনিতে উপস্থিত হলেও তাকে চমকে দেওয়ার জন্য একদিন আত্মগোপনেই থাকেন জ্যাক। সেই সাথে এক এলার এক বন্ধু আর বাবা-মা’র সহায়তায় ঠিক তাকে চমকে দেওয়ার মুহূর্তটি ভিডিও’তে ধারণের ব্যবস্থাও পাকাপোক্ত করেন। অবশেষে জন্মদিনের সেই মুহূর্তে এলার বন্ধুকে সাংবাদিক বানিয়ে অনেকটা বাড়ির গ্যারেজ দেখানোর ছুতাতেই এলাকে নিয়ে আসেন গ্যারেজে যেখানে আগে থেকেই লুকিয়ে ছিলেন জ্যাক। শেষতক জ্যাককে দেখে যথা নিয়মেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এলা। অন্যদিকে জ্যাক আর এলার চমত্কার এই প্রেমের গল্পটি ইউটিউবে উপভোগ করেছেন গোটা দুনিয়ার প্রায় ১.৭ মিলিয়ন দর্শক।