অবশেষে অনুশীলনে ফিরলেন সাকিব
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৪, ২২:০০
জুন মাসের মাঝামাঝি ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষ হয়ে গেছে। তারপর দেড় মাস সময় প্রায় কেটে গেছে, জাতীয় দলের বাকি সতীর্থরা একপর্বের অনুশীলনও করে ফেলেছেন। কিন্তু তাকে এই সবটাই দর্শক হিসেবে ঘরে বসে দেখতে হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এখন হয়তো ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলে দেশে ফিরতেন, তাকে অনেকদিন পর দেখা যেত মিরপুর স্টেডিয়ামে।
অনেকদিন পরই কাল মিরপুর স্টেডিয়ামে দেখা গেল সাকিব আল হাসানকে। তবে সেটা সিপিএল খেলে নয়, ফিরলেন নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা আসায় জাতীয় দলের অনুশীলনে। ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা সাকিবের এখনও চলছে। সেটা কমানো হবে কি না, তা বিবেচনা করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই সপ্তাহেই হয়তো বৈঠকে বসবে। তার আগেই বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের অনুরোধে জাতীয় দল ম্যানেজমেন্ট গতকাল থেকে তাকে অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। সে অনুযায়ী জিম করার ভেতর দিয়ে জাতীয় দলের সঙ্গে প্রত্যাবর্তন হলো সাকিবের।
বোর্ড সভাপতি সরাসরিই জানিয়ে দিয়েছেন, আপিল আবেদন করলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সাকিবের খেলা হবে না; দল ঘোষণাও করা হয়েছে তাকে বাইরে রেখে। তবে ভেতরের কিছু সূত্রের খবর হলো বিশ্বকাপ সামনে রেখে সাকিবকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজেই ফেরার সুযোগ দেয়া হতে পারে। এই দেশসেরা ক্রিকেটার বিশ্বকাপের আগে এসব খেলার মধ্যে না থাকলে দেশের ক্ষতি হবে বলেই এখন বোর্ডের পরিচালকরা অনেকে মনে করছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত সাকিবের ব্যাপারে বোর্ড যাই সিদ্ধান্ত নিক, সাকিব ইতিবাচক একটা খবরের দিকেই চেয়ে আছেন নিশ্চয়ই। তিনি নিজে এসব বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী নন। তবে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করছে, সাকিব এই নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হতে খুবই উদগ্রীব হয়ে আছেন। জীবনে খুব একটা এমন বিচলিত হননি বলেও সেই সূত্রটির ধারণা।
সাকিবের এই ফেরাটাই খবর। নইলে দ্বিতীয় পর্বের এই অনুশীলনে প্রথম দিন অন্তত বলার মতো কিছু ঘটেনি। আগে যেমন প্রতিদিনের অনুশীলন শেষে একজন করে খেলোয়াড়ের কথা বলার একটা রেওয়াজ তৈরি হয়েছিল, সেটাও না থাকায় নিতান্ত সাদামাটা মনে হল দিনটাকে।
অবশ্য শেষ পর্যন্ত এটাকে সাদামাটা দিন ক্রিকেটীয় অর্থে বলা চলে না। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য বেশ তাত্পর্যময় একটা দিন ছিল। রিপোর্টিংয়ের পর অ্যাকাডেমি ভবনে লম্বা একটা মতবিনিময় পর্ব হলো ক্রিকেটারদের। কোচরা এবং খেলোয়াড়রা সেখানে মূলত বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা ও করণীয় নিয়ে কথা বললেন। যদিও কোনো খেলোয়াড় মুখ খুলতে রাজি নন। তবে এটুকু অন্তত জানা গেল যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর, জিম্বাবুয়ের বাংলাদেশ সফর ও বিশ্বকাপ নিয়েও আলোচনা হলো।
স্বল্প মেয়াদী লক্ষ্য হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাংলাদেশ কী করতে চায়, কীভাবে করতে চায়; এটা ছিল প্রাথমিক আলোচ্য। এরপর জিম্বাবুয়ে সফর হয়ে বিশ্বকাপ পর্যন্ত একটু লম্বা করে ভাবার ব্যাপারটাও এলো। ভেতরের একটি সূত্র জানালো, এখানে শুধু কোচরাই বক্তৃতা করে গেছেন, ব্যাপারটা এমন নয়। খেলোয়াড়রা, বিশেষ করে সিনিয়ররা তাদের বিভিন্ন আইডিয়া শেয়ার করেছেন। কী করলে কী হবে— এ টাইপের আলোচনায় ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ বেশ উল্লেখযোগ্য ছিল বলেই সূত্রটি দাবি করলো।
এটাকে জাতীয় দলের একটি গুণগত পরিবর্তন বলা যেতে পারে। খেলোয়াড়দের মানসিকতার পরিবর্তন ভাবা যেতে পারে। সে পরিবর্তন আরও ইতিবাচকভাবে আনার জন্য জাতীয় দলের সঙ্গে দ্রুতই যোগ দিচ্ছেন হাই প্রোফাইল অস্ট্রেলিয়ান ক্রীড়া মনস্তত্ত্ববিদ ডক্টর ফিল জনসি।
আজ ও আগামীকাল জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে অতি সংক্ষিপ্ত দু’ দিনের কয়েকটি সেশনে অংশ নেবেন ফিল।
ফিল জনসিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সারির ‘পারফরম্যান্স সাইকোলজিস্ট’ বলে মনে করা হয়। করপোরেট জগতে বিভিন্ন নামজাদা প্রতিষ্ঠান, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রাদেশিক সরকারের দপ্তরের সঙ্গে কাজ করেছেন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। এএফএল দল ব্রিসবেন লায়ন্সের এবং এআরএল দল ব্রিসবেন ব্রনকোসের সঙ্গে কাজ করেছেন লম্বা সময় ধরে। ফিলের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল, বার্সেলোনা, সিডনি ও এথেন্স অলিম্পিকে কোচ ও আয়োজকদের পরামর্শক হিসেবে অলিম্পিক কমিটি থেকে নিয়োগ পাওয়া। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় বেসবল দল ও কুইন্সল্যান্ড বুলস ক্রিকেট দলের পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। এ ছাড়া কুইন্সল্যান্ড স্পোর্টস অ্যাকাডেমি এবং অস্ট্রেলিয়ান স্পোর্টস ইনস্টিটিউটেও খণ্ডকালীন পরামর্শক হিসেবে আছেন তিনি।