ভারতীয় ব্যর্থতার কারণ জাদেজা!

ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডকে টেস্টে হারিয়ে যে বিস্ময় তৈরি করেছিল ভারত, তা মিলাতে না মিলাতেই পরের টেস্টে হেরেছে যাচ্ছেতাই ভাবে। আর এই হার সহজে নিতে পারছেন না দেশটির সাবেকরা। তারা নানা কারণ খুঁজে বের করছেন এই পরাজয়ের ব্যাখ্যা করতে। এই তৃতীয় টেস্টে রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে না খেলানোই পরাজয়ের কারণ বলে দাবি করেছেন দেশটির কিংবদন্তী স্পিনার এরাপাল্লি প্রসন্ন। একই সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্টের রবীন্দ্র জাদেজাকে স্ট্রাইক বোলার হিসেবে ব্যবহার করার কারণেই দলের ‘মহাবিপর্যয়’ ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সাবেক এ স্পিন গ্রেট মনে করছেন অশ্বিনকে না খেলানো এবং তার পরিবর্তে জাদেজাকে মন্থর বোলিংয়ের নেতৃত্ব দেয়ার কারণেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতীয় দলের পরিকল্পনা সফল হয়নি। এক সাক্ষাত্কারে প্রসন্ন বলেন, ‘জাদেজাকে সব টেস্টে খেলানো উচিত। তবে কেবলমাত্র একজন স্টক বোলার হিসেবে— সে উইকেট শিকারি নয়। স্পিনার হিসেবে জাদেজার যে সক্ষমতা তাতে সে কখনোই একজন স্ট্রাইক বোলার হতে পারে না। এখন টিম ম্যানেজমেন্ট যদি একজন স্টক বোলারকে স্ট্রাইক বোলার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় তবে মহাবিপদ ঘটবেই।’ খেলোয়াড়ী জীবনে মাত্র ৪৯ টেস্টে ১৮৯ উইকেট শিকার করা প্রসন্ন বলেন, ‘তিন টেস্টের সব ক’টিতেই অশ্বিনকে খেলানো উচিত ছিল। ইংল্যান্ডে আমার নিজের খেলার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি অশ্বিনকে ওল্ডট্রাফোর্ডে খেলানো হলে সে স্পিন সহায়ক ওভাল পিচে ভাল করবে। অশ্বিনকে স্পিন বোলিংয়ের নেতৃত্ব দিয়ে জাদেজাকে কেবলমাত্র তার সহায়ক বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত হবে।’ জাদেজা এ পর্যন্ত তিন টেস্ট ম্যাচে ১৪২.৩ ওভার বোলিং করে মাত্র ৮ উইকেট শিকার করেছেন। অর্থাত্ ১ উইকেট শিকারের জন্য সে প্রায় ১৮ ওভার খরচ করেছে, ‘তার এমন বোলিং ফিগারেই কি সব কিছু স্পষ্ট নয়? একটা উইকেট শিকারে যদি একজন বোলার ১০০ বল খরচ করে— অর্থাত্ একজন ব্যাটসম্যান ভালভাবে থিতু হওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পাচ্ছে। ২২ গজ থেকে কিছুটা সহায়তা না পেলে এবং বল কিছুটা টার্ন না করার আগ পর্যন্ত কোন ব্যাটসম্যানকে জাদেজা সমস্যায় ফেলেছে এমনটা দেখেছেন? যদি সেটা না হয় তবে আপনি কিভাবে জাদেজার ওপর নির্ভর করেন?’ অশ্বিনকে সেরা একাদশে না রাখার কি কারণ থাকতে পারে প্রশ্ন করা হলে প্রসন্ন বলেন, ‘কিসের ভিত্তিতে সেরা একাদশ নির্বাচন করা হয় আমি জানি না। তবে এখানে বিশ্বাসের অভাব দেখা যাচ্ছে। তার ডেলিভারির জন্য অশ্বিনের ওপর আপনার বিশ্বাস থাকতে হবে।’-বাসস