ভাঙ্গনের হুমকিতে মনপুরা ফিশারিজ

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। প্রকৃতি অকৃপণভাবে তার সমস্ত সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে দ্বীপটিতে। পর্যটকরা এখানে আসলেই দ্বীপটির প্রেমে পড়ে যান, মুগ্ধ হন এখানকার অপার সৌন্দর্য দেখে। তবে এখানকার বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থানের মধ্যে পর্যটকদের কাছে অন্যতম পছন্দের স্থান হলো সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপিত মনপুরা ফিসারিজ লিমিটেড। এখানে এলেই মনে জাগে ভালো লাগার অনুভূতি। শুধু আকর্ষণীয় স্থানই নয়, অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক এ ফিসারিজ থেকে সরকার প্রতিবছর মোটা অংকের রাজস্বও পেয়ে থাকে। কিন্তু শংকার বিষয় হলো, গুরুত্বপূর্ণ এ ফিসারিজ প্রকল্পটি বর্তমানে ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে। মেঘনার ভাঙ্গন থেকে এটিকে রক্ষার জন্য শীঘ্রই উদ্যোগ নেয়া জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন মহল। উপজেলার হাজীর হাট ইউনিয়নের চরযতিন গ্রামে ১৯৯১ সালে স্থানীয় মত্স্য ব্যবসায়ী আলহাজ্ব শামস উদ্দিন বাচ্চু চৌধুরী প্রায় ২১০ একর জমির উপর মনপুরা ফিসারিজ লিমিটেড নামক বিশালাকার মত্স্য ঘেরটি স্থাপন করেন। ঘেরটি দৈর্ঘ্যে প্রায় সাড়ে ৫ কি.মি.। এটি একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় কয়েক ঘন্টা লেগে যায়। পরিকল্পিতভাবে স্থাপিত এ ঘেরের মধ্যে রয়েছে ২০/২৫টি স্বতন্ত্র পুকুর। এছাড়া বেশ কয়েকটি লেকও রয়েছে। পুকুর এবং লেকের মধ্যে প্রতিবছর হোয়াইট ফিস, বাগদা, গলদা, রুই, কাতল, মৃগেল, কোরাল, মাগুর, কৈ, শিং, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, চাইনিজ পুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করা হয়। প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার মাছ এ ঘের থেকে ঢাকা, চাঁদপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানের বাজারে বিক্রি করা হয়। পুকুর ও লেকের পাড়ে রয়েছে সারি সারি নারিকেল গাছ। পাশাপাশি রয়েছে আপেল, কমলা, আঙ্গুর, আম, কাঁঠাল, বাউকুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ। এছাড়া আরো বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষরাজিতো রয়েছেই। পুকুরে রয়েছে স্পিড বোট। পর্যটকরা এসে এ স্পিড বোটে চড়ে আনন্দে মেতে ওঠেন। ঘেরের পাশে অবস্থিত কেওড়া বনে বিচরণ করে হরিণ। সব মিলিয়ে এ স্থানটি একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। এমন একটি দর্শনীয় স্থান এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম উত্সস্থল আজ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ঘেরটির উত্তর পাশে অবস্থিত বাঁধের প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে রাক্ষুসে মেঘনা। উত্তর পাশের প্রায় ২৫ একর বাদ রেখে আরেকটি বাঁধ নির্মাণ করেছেন ঘের মালিক। কিন্তু তাতে মেঘনার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। ভাঙ্গনের কবল থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানটি রক্ষার জন্য আপাতত ভাঙ্গনকবলিত এলাকার পাশে ভেড়িবাঁধ নির্মাণের জোরালো দাবি করেছেন ঐ অঞ্চলের মানুষ। মনপুরা ফিসারিজ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আলহাজ্ব শামস উদ্দিন বাচ্চু চৌধুরী বলেন, মত্স্য ঘেরটি নির্মাণ করতে তার অনেক অর্থ, শ্রম, মেধা এবং সময় ব্যয় হয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত হলেও এটি বর্তমানে মনপুরার সম্পদ এবং পরোক্ষভাবে দেশেরও। এখানে প্রতিদিন শতশত মানুষ বেড়াতে আসে। এটা আমাকে আনন্দ দেয়। এ আকর্ষণীয় স্থানটি রক্ষার দায়িত্ব সকলেরই।