স্বল্প খরচে সর্বোচ্চ উন্নয়ন

সারা দেশের জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সরকার বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করে রাস্তার উভয় পাশে ড্রেন নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘস্থায়ীভাবে কিভাবে তা নিশ্চিতভাবে দূর করা যায় সে অনুযায়ী বিবিধ কৌশল নির্ধারণ করে রাস্তার দু পাশে যেখানে ড্রেন করা প্রয়োজন সেখানে দু পাশে ড্রেন করতে হবে, যেখানে এক পাশে করা প্রয়োজন সেখানে এক পাশে ড্রেন নির্মাণ করতে হবে। ড্রেনের সুফল পেতে হলে আগে সম্পূূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে পলিথিনের ব্যবহার ও উত্পাদন। অর্থাত্ যেখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় সেখানে ড্রেন নির্মাণ করতে হবে, যেখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় না সেখানে জনগণের করের টাকা খরচ করে ড্রেন করার প্রয়োজন নেই। এখন সারা দেশে ঢালাওভাবে রাস্তার দু পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। ফলে সরকারি জায়গা ছাড়াও বহু সামর্থ্যহীন মানুষের বৈধ জায়গা, সীমানা দেওয়াল, ঘরবাড়ি, দোকানপাট কোনোরকম ক্ষতিপূরণ না দিয়ে ভেঙে ফেলা হচ্ছে, ফলের গাছসহ শত বছর বয়সী গাছ কাটা পড়ছে। সরকার ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা অধিগ্রহণের সময় ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীরা নিজের জায়গার সামান্য ক্ষতি মেনে না নিয়ে সাধারণ মানুষের জায়গার ওপর দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করে তাদের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিয়ে পথে বসিয়ে থাকে। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই কাজের পরিমাণ প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে কিভাবে বৃদ্ধি করে টাকার বরাদ্দ বাড়ানো যায়, সে চিন্তাধারা নিয়ে কাজ করার ফলে রাষ্ট্র, জনগণ ও সরকারের নজিরবিহীন ক্ষতি সাধন হচ্ছে।

আব্বাস উদ্দিন আহমদ

ধোপাদিঘির দক্ষিণ পাড়, সদর, সিলেট ৩১০০